আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ বৃহস্পতিবার রাতভর অব্যাহত। শুক্রবার সকালেও জেলার অধিকাংশ এলাকায় আকাশ ছিল ঘন মেঘে ঢাকা। মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সেই কারণে জেলার উপকূলবর্তী এলাকা এবং নদী সংলগ্ন অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।


নিম্নচাপের জেরে বঙ্গোপসাগর, মোহনা ও নদীগুলিতে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। যারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী ব্লকগুলিতে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর আবেদন জানানো হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।


টানা বৃষ্টিতে জেলার একাধিক নিচু এলাকায় জল জমে গেছে। বিভিন্ন গ্রামীণ ও শহরতলির রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জল নামতে সময় লাগছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং জল নিষ্কাশনের কাজও শুরু হয়েছে।


এই দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভোগান্তির চিত্র ধরা পড়েছে কুলপি ব্লকে। কুলপি থানার অন্তর্গত করঞ্জলী থেকে ঢোলা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেই গর্তে বৃষ্টির জল জমে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর খাদ, তা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই স্কুলের পড়ুয়া, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং নিত্যযাত্রীরা যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তার বেহাল দশা সামনে আসে। মোটরবাইক, অটো, টোটো এমনকি ছোট চারচাকার গাড়ি চলাচলও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


এলাকাবাসীর দাবি, অতীতেও একাধিকবার রাস্তার সংস্কারের কাজ হয়েছে। কিন্তু সেই কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্ষা এলেই রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। ফলে প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। স্থায়ী সমাধানের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনও পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন মণ্ডল বলেন, "আগের সরকার এই রাস্তার স্থায়ী সংস্কার করেনি। বিধায়কও বহুবার এলাকায় এসেছেন, রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন। কিছু কাজও হয়েছে, কিন্তু বর্ষা এলেই আবার একই অবস্থা হয়। আমরা বছরের পর বছর একই সমস্যার মধ্যে রয়েছি। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।"


এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিম্নচাপের পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও জল জমে গেলে দ্রুত তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।


আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের অযথা ঝুঁকি না নেওয়া, জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কুলপির করঞ্জলী-ঢোলা রাস্তার দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের দাবিও জোরালো হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

&t=1s