আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পরই অতীতের এক ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই কার্যত তছনছ হয়ে গেল এক তরুণীর জীবন।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুর এলাকায়। অভিযোগ, বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণের ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক সরকারি আধিকারিককে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু সেই বিয়েতে আপত্তি ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তির।
অভিযোগ, তরুণীর বিয়ে ভাঙতেই পুরনো নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। বিষয়টি অসহ্য হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত তরুণী ও তাঁর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে অভিযুক্ত অমিত দে-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে অমিত দে নামে পরিচয় দিয়ে ভূমি সংস্কার দপ্তরের একজন আধিকারিক বলে দাবি করেছিলেন।
তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাবা পেশায় একজন প্লাম্বার। ২০১৯ সালে অমিত দে-র বাড়িতে পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় দুই পরিবারের। সেই সূত্রেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ, ওই সময় একাধিকবার তরুণীকে বাড়ির বাইরে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের সময় তরুণী নাবালিকা ছিলেন বলে দাবি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের সময় নির্যাতিতা নাবালিকা থাকায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হয়।
মুখ খুললে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ভয় ও চাপের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাউকে কিছু জানাননি নির্যাতিতা। কয়েক বছর পর তরুণীর বিয়ে ঠিক হতেই ফের সক্রিয় হয় অভিযুক্ত।
অভিযোগ, সে নির্যাতিতার হবু বরের বাড়িতে গিয়ে ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয়। এরপরই তরুণীর পরিবার সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিবাহিত এবং তাঁর সন্তানও রয়েছে। তবুও তিনি এই অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নির্যাতিতা জানান, ‘একবার নয়, একাধিকবার আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমার গোপন ছবি তুলে রেখে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে আমাকে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হতো। ভয়ে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছিল। সেখানেই চলেছে নির্যাতন।’
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
