আজকাল ওয়েবডেস্ক : বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত দয়ানগর-কুঠিবাড়ি আমবাগান এলাকায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের দুই নাবালিকা কন্যা।  


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের নাম মানিক ব্যাপারী (৪০), তাঁর স্ত্রী দোলা ব্যাপারী (৩৬),এবং ওই দম্পতির দুই নাবালিকা কন্যা তানহা ব্যাপারী (১৫)এবং মায়েশা ব্যাপারী (৬)। ভগবানগোলা থানার পুলিশ ইতিমধ্যে চারটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। 


 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন , দেহগুলো উদ্ধারের সময়  মানিক ব্যাপারীর দেহ ঘরের মধ্যে থাকা ফ্যান থেকে ঝুলছিল এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের দেহ ঘরের মেঝেতে পড়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন মেঝেতে যে তিনজনের দেহ পড়েছিল তাদের প্রত্যেকের গলা কাটা ছিল এবং শরীরে আরও কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের অনুমান নিজের স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে খুন করে মানিক ব্যাপারী আত্মঘাতী হয়েছেন। 


কিন্তু কী কারণে পরিবারের সকলকে খুন করে মানিকবাবু আত্মঘাতী হলেন সেই বিষয়ে এখনও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ওই পরিবার সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছিল। 

 

মৃতদেহ উদ্ধারের সময় এলাকায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, দেহগুলো দেখে তাঁদের অনুমান মানিকবাবু নিজের স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে সম্ভবত দিন দুয়েক আগেই খুন করেছিলেন। তিনটি দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলেও অনেকে দাবী করেছেন। তবে ওই এলাকার কিছু বাসিন্দা দাবি করেছেন, মানিক ব্যাপারীকে গতকালও এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আদতে নদিয়া জেলার বাসিন্দা স্বপন ব্যাপারী গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত কালুখালী এলাকায় বসবাস করতেন। দশ মাস আগে ভগবানগোলার হায়দার আলি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দয়ানগর-কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে মানিক নিজের পরিবারকে নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন। 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানগোলার স্বপনগড় মোড়ের কাছে স্বপনবাবুর একটি ফলের দোকান ছিল। সেই দোকানটি বেশ ভালই চলত বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। এলাকবাসীর অনুমান ওই পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা ছিল না।। সম্ভবত অন্য কোনও কারণে স্বপন ব্যাপারী নিজের স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের খুন করেছেন।  জিল্লার রহমান নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন," গতকালকেও স্বপন ব্যাপারীকে এলাকায় অনেকেই দেখেছেন এবং এক দোকানদারের কাছ থেকে পানীয় জলও কিনেছিলেন।"


 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ,বুধবার সকাল থেকে স্বপন ব্যাপারীর ঘর থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বার হতে থাকে। এর পরই লোকজন পুলিশে  খবর দেন। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের সহযোগিতায় স্বপনবাবুর ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের ৪ সদস্যকে মৃত অবস্থায় ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অস্বাভাবিক এই চার মৃত্যুর পেছনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চলা অশান্তিকে দায়ী করেছেন। এক বাসিন্দা জানান,স্বপনবাবুর আদি বাড়ি  নদিয়া জেলায়।  কিন্তু  'অজ্ঞাত' কিছু কারণে গত প্রায় দশ বছর আগে  স্ত্রীকে নিয়ে ওই ব্যক্তি মুর্শিদাবাদের কালুখালীতে চলে আসেন।   প্রায় দশ মাস আগে কালুখালীর বাড়ি ছেড়ে ভগবানগোলার দয়ানগরে একটি ভাড়া বাড়িতে  ওই দম্পতি নিজেদের দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন। 

 

তাঁদের আরও দাবি, সম্প্রতি স্বপনবাবু ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। নতুন ধর্মাচরণ করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্য চলছিল বলে কিছু ব্যক্তি দাবি করেছেন। স্বপনবাবু  নতুন যে ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি করেছেন সেই ধর্মের কিছু বইও ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে স্বপনবাবুর পাশাপাশি তাঁর গোটা পরিবারও ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন কিনা সেই বিষয়ে এখনও কেউ কিছু স্পষ্ট ভাবে জানাতে পারেনি। 

ভগবানগোলা থানার এক আধিকারিক জানান,মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।  কী কারনে এই আত্মহত্যার ঘটনা বা খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।