আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ইকোপার্ক থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত রাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। বেপরোয়া গতির কারণে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁর গাড়ি। এই ঘটনার পরই পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে আটক করে। আজ ইকোপার্ক থানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে আসা হয় বারাসাত আদালতে।


প্রথমে মুখ ঢেকে প্রশান্তকে কোর্টে প্রবেশ করানো হয়। পরবর্তীতে আর মুখ ঢেকে নয়, সেই পুরনো ছন্দেই কোর্ট লকাপ থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিজিএম আদালতে। আদালতে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের পর প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবীও জামিনের আবেদন করে।
 

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রশান্ত বর্মনের পুরনো মামলাকে বর্তমান ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয়নি।
মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে জামিন যোগ্য ধারায় মামলা করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশান্ত বর্মনের আইনজীবীর পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। তবে আপাতত আদালত রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে। তাই প্রশান্তের ঠাঁই শ্রীঘরেই। 

 
তাঁর বিরুদ্ধে ২৮১, ১২৫বি এমভি আইনে ১৮৪ এবং ১৮৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন পুরনো কেস ট্যাগ করা হল না, এতদিন ধরে কেন ফেরার ছিল তাহলে এই প্রশান্ত বর্মন- এমন প্রশ্ন উঠছে। তবে আদালতের রায়দানের আগে কোনও আইনজীবী এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তবে বর্তমান কেসের পরিপেক্ষিতে প্রশান্ত বর্মনের জামিন পেয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই থেকে যাচ্ছে।

সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানা জানান, পুরনো কেসের সঙ্গে বর্তমান কেসের কোনও যোগাযোগ নেই। পুরনো মামলায় জেলা আদালত থেকে জামিন পেয়েছিল প্রশান্ত। তবে আজকের মামলাটি সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রসঙ্গত, গত রাতে কলকাতার রাস্তায় মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি বলে অভিযোগ। বেপরোয়া গতির কারণে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে তাঁর গাড়ি। এই ঘটনার পরই পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে আটক করে। খুনের মামলার পাশাপাশি মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে। 

একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় রীতিমত অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছেন প্রশান্ত। পাশাপাশি নিজের আইফোন বের করে ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও করে নিয়ে হুমকি দেন তিনি। স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, দেশের সর্বোচ্চ আদালতও তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। তবে সেই নির্দেশ এড়িয়ে এতদিন পলাতক ছিলেন এই প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক। এমনকি পুলিশের সাম্প্রতিক চার্জশিটেও তাঁকে 'ফেরার' বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।