আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমা ধৈর্যের কথা বলে। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের কথা বলে। এই ধর্ম মহাসম্মেলন বলে, টলারেন্সের কথা। যেখানে কখনও উত্তেজনা যাতে না হয়, সেই কথা নিয়ে আলোচনা হয়। এই ধর্ম সম্মেলনের একমাত্র লক্ষ্য শান্তি। কোনও রাজনীতি নেই। এখানে শুধুই মানব নীতি। সেই নীতি নিয়েই হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, তারা অন্য কিছু মনে করতে পারে। তিনি নিশ্চিত এই ইজতেমার মধ্যে দিয়েই সম্প্রীতি বজায় থাকবে। শনিবার ধনিয়াখালির পুইনানে বিশ্ব ইজতেমায় এসে এই মন্তব্য করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এদিন পুইনানে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন "গোটা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন। বিশ্বের একাধিক দেশ থেকে প্রতিনিধিরা এসেছেন। আমি খুশি। আগামী দু'দিন আরও অনেক মানুষ আসবেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কথায় আগত সকলেই আমাদের অতিথি। তারা সুষ্ঠু ভাবে আসবেন সুষ্ঠু ভাবে চলে যাবেন। তাদের যাতে যত্নে কোনও ত্রুটি না হয়, সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের সবার"।
"এখানে সেই কাজটাই করা হচ্ছে। দূর দূরান্ত থেকে অনেক পূণ্যার্থী এসেছেন। অনেকে এখনও আসছেন। তাদের জন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা স্থলে কোনও বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইজতেমার মধ্যে দিয়ে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করেছে ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র। মুখ্যমন্ত্রী যে কথা বলেন, ধর্ম যার যার সেই কথা মেনেই ওরা কাজ করছে। নিজের ধর্মকে বিশ্বাস করে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে হয়। এই কাজটাই ওরা করছে। আমরা বাংলায় সবাই একসঙ্গে থাকি। আমাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ ধর্মীয় উগ্রতা নেই। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছেন যত মত তত পথ। আমরা সেই পথেই থাকি," জানান ফিরহাদ।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবির ইজতেমায় এসে বাধার মুখে পরেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে এদিন ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, "কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এই ধর্ম সম্মেলনের আসবেন। গন্ডগোল পাকাতে চাইবেন। কেউ কেউ মাথামোটা হয়ে থাকেন। কেউ হন অশিক্ষিত। সেটা নিয়ে কিছু বলার নেই। মানুষ ধৈর্য্যের সঙ্গে সম্মেলনে আছেন। আমাদের কোনও রাজনীতি নেই। চোরোকো আতি হ্যায় নজর, সারে জাহা চোর। যারা নিজেরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, তারা মনে করে ইজতেমা নিয়ে রাজনীতি করছি। আমরা দীঘা নিয়ে, নিউ টাউন নিয়ে, গঙ্গা সাগর নিয়ে রাজনীতি করিনা, তাই বিশ্ব ইজতেমা নিয়েও রাজনীতি করিনা। সব ধর্মের মানুষকে সাহায্যের জন্য নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর সরকার, অনুরাগি, তাঁরা আছেন। তাঁরা সবরকমভাবে চেষ্টা করে চলেছেন যাতে সুষ্ঠু ভাবে সম্মেলন সম্পন্ন হয়। কোনও রাজনীতি নেই। আর রাজনীতি থাকবেই বা কেন? এখানে মানব নীতি। সেই নীতি নিয়েই বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে।"
এদিন ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে পূণ্যার্থীদের ভিড় ছিল একই রকম। আরও দু'দিন অর্থাৎ সোমবার পর্যন্ত চলবে এই ধর্মীয় মহাসম্মেলন।
