আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। শুনানি পর্ব শেষ হলেও ভোটারদের তালিকা নিয়ে জটিলতা এখনো বর্তমান। প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ্য ভোটারদের নামের নথি যাচাই নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী। তবে এবার সেই তালিকাকে কাটছাঁট করার পর এখনো কয়েক লক্ষ সংখ্যক ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংগতি তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসারদের হাতে দায়িত্ব দিয়েছে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং রাজ্যের মুখ্য সচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি ও পুলিশ কর্তাদের উপস্থিতিতে। 

আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর অবশেষে জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারদের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জুডিশিয়াল অফিসারদের স্ক্রুটিনি করার জন্য। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকার তথ্যগত অসংগতি দূর করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পোর্টালের কাজ শুরু করে দিয়েছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নির্বাচনী দপ্তর সূত্রে খবর, সবচেয়ে বেশি তথ্যের অসংগতি ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাতে। সেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথিতে নাম, ঠিকানা, বয়স বা অন্যান্য তথ্যের গরমিল পাওয়া গিয়েছে। ফলে ওই জেলায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। অন্যান্য জেলাতেও ধাপে ধাপে যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।

নির্বাচনী দপ্তর আরও জানিয়েছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে যদি কোনও ভোটারের নাম বাতিল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, একবার নাম বাদ পড়লেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে না। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে  আবেদন জানানো বা পুনরায় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে ফোন নাম্বার ৬ পূরণের মাধ্যমে।

এই বিশাল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জুডিশিয়াল অফিসারদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পোর্টালে লগ-ইন করতে পারবেন। থাকবে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক অ্যাক্সেস সিস্টেম। যাতে নিরাপত্তা বজায় থাকে। প্রতিটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সিদ্ধান্তের রেকর্ড যাচাই করা যায়। 

তথ্যগত অসংগতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ ১০০০ ক্যারেক্টারের বিস্তারিত রিমার্কস লেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না। তাদের সঠিক ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও খবর, বাহিনীর প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানো থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি করা হবে‌ সিসিটিভির মাধ্যমে। বাহিনী কোথায় যাচ্ছে এবং কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে সেই সমস্ত কিছু। এর ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আইনসম্মত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের মতে, সঠিক ভোটার তালিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি। তাই নথি যাচাই থেকে নিষ্পত্তি, প্রতিটি ধাপে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বৃহৎ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই গতি পেয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এখন নজর থাকবে, কত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে এই ৬০ লক্ষ নথির নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয় এবং কতজন ভোটার পুনরায় আবেদন করেন। পাশাপাশি পূর্বের বাতিল হওয়া ৫৮ লক্ষ ভোটারদের নাম এর পরেও আরো সংখ্যাটা কতটা বাড়বে তা নিয়েও একটা বড় সংশয় তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পাশাপাশি একই সাথে সংশয় তৈরি হয়েছে ভোটারদের মধ্যেও। তবে সর্বসাকুল্যে মোট বাদ যাওয়া ভোটার সংখ্যা সাত কোটি আট লক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫% বাদ যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত। নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।