আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে একটি কারখানা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আগুনে পুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮।

জানা যাচ্ছে, এখনও অনেকে নিঁখোজ। আদৌ প্রাণে বেঁচে আছেন নাকি ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে সেটা কেউ জানে না। কারখানার সামনে ভিড় জমিয়েছেন নিখোঁজদের পরিজনরা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, সঙ্গে ছিলেন দমকল বিভাগের ডিজিও। সেখানে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘুরে দেখেন গোটা ঘটনাস্থল।

এমনকী, নিখোঁজদের আত্মীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বসু বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই দমকলের ১২টি ইঞ্জিন পৌঁছে যায়, পরে ইঞ্জিন আরও বাড়ানো হয়। সারারাত কাজ করেছেন দমকল কর্মীরা। ২৬ জানুয়ারি থাকায় অনেক জায়গায় ছুটি ছিল। কিন্তু সেসব বাতিল করে দমকল কর্মীরা যথেষ্ট পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে আগুন নিভিয়েছেন। আমি দমকলের ডিজির সঙ্গে ভিতরে গিয়েছিলাম। আগুন লাগলে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেগুলো আমি দেখিনি। আইনগতভাবে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা তা নিচ্ছি। সেইমত পদক্ষেপ করা হবে, তদন্ত হবে।’

দমকলের ডিজি বলেন, ‘কারখানার ফায়ারিং ক্লিয়ারেন্স ছিল না। আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব, এফআইআর হবে, তদন্ত হবে।’

পুলিশ সূত্রে খবর, নাজিরাবাদের দু’টি গুদামে আগুন লেগে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু, তাঁদের এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে গুদামের ভিতরে এখনও আগুন জ্বলছে।

আগুন লাগার পর থেকেই নিখোঁজ ২০ জন শ্রমিক। ওই ২০ জনের নামে মিসিং ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ বলে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা গিয়েছে।

সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক এমন ঘটনার খবরে রীতিমতো আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শুরু হয় তৎপরতা। প্রায় দিনভর নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে সমস্ত রকমের সহযোগিতার বার্তা দিয়ে এসেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই, ময়নার বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল, তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা, এছাড়াও নন্দকুমারের গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি সহ মোট ১৩ জন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল এ তথ্য জানিয়েছেন। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানান, ‘এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ।

নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের এখনও পর্যন্ত শনাক্তকরণ করা যায়নি।’ আহতদের কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে অনুমান।

১১ ঘণ্টা ধরে দমকলের ১৬টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ করে। মঙ্গলবার সকালেও ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

তিনি আরও জানান, ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করবে। গোডাউনের মধ্যে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ঠিক ছিল কিনা সে বিষয়ক খতিয়ে দেখা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন যাদবপুর লোকসভার সংসদ সায়নী ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত হন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা ফিরদৌসী বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রাতে কারখানায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দমকলে খবর দেন। দ্রুত ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কিছুই করে উঠতে পারছিলেন না কেউ। ভোরের দিকে খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে, নিখোঁজ ছয় কর্মীর পরিবারের লোকজন জানান, তাঁরা ফোনে পাচ্ছেন না কাউকে। একজনের ফোন বেজে যাচ্ছে। তিনি ধরছেন না। ভিতরে আটকে আছেন না পালিয়ে গেছেন আগুন লাগার সময়, তা বোঝা যাচ্ছে না।