আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ৩১শে জানুয়ারি ও ১লা ফেব্রুয়ারি হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের ঐতিহ্যবাহী মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলস যাত্রা ও ধর্মীয় কর্মসূচি। 

এই প্রসঙ্গে মাহেশ জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, আগামী ৩১শে জানুয়ারি নিত্যানন্দ চতুর্দশীর দিন শোভাযাত্রা সহকারে কলস যাত্রার সূচনা হবে। সেদিন গঙ্গা পুজো ও গঙ্গা আরতির মাধ্যমে ১০৮ কলস নিয়ে যাত্রা শুরু হয়ে দুপুরে মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এসে পৌঁছাবে। এরপর বিকেলে গীতা পাঠ ও ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে গীতা পাঠ ও ধর্মসভা আয়োজন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তরে পিয়াল অধিকারী স্পষ্টভাবে জানান, এই কর্মসূচির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যুক্ত নেই। তিনি বলেন, “রাজনীতি এক জায়গায়, আর আমাদের ধর্মসভা ও গীতা পাঠ সম্পূর্ণ অন্য জায়গায়। প্রতি বছরই মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি ও গীতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।”

পিয়াল অধিকারী আরও বলেন, “মন্দির হোক কিংবা মসজিদ - কোনও ক্ষেত্রেই আমাদের ট্রাস্ট কমিটির মধ্যে কোনও রাজনৈতিক রং নেই। আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ধর্মসভা, গীতা পাঠ ও হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করেছি। কোথাও মন্দির বা মসজিদ থাকলে তাতে আপত্তির কোনও কারণ নেই, আর এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করাও অনুচিত।”

মাহেশ জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সম্পাদকের কথায়, রাজনৈতিক মেরুকরণ আর ধর্মীয় ভাবনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে কোনও ধরনের ধর্মীয় মেরুকরণের স্থান নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। এছাড়াও দেশের ধর্মীয় পরিমণ্ডলে ও ভারতের শঙ্করাচার্যকে ঘিরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তিনি তীব্র ভাষায় নিন্দা জানান। পিয়াল অধিকারী বলেন, “সনাতন ধর্মের প্রকৃত অর্থ অনেকেই বোঝেন না। যিনি সনাতন ধর্মের মর্ম বোঝেন, তিনি কখনও তা নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ করবেন না। অতীতেও সনাতন ধর্ম যেমন ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনই থাকবে।”