আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলে ক্রমশ বাড়ছে বেসুরো বিধায়কের সংখ্যা! সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে বিধানসভায় সই জালের বিষয়ে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহা। এর পরেই দল তাঁদের বহিষ্কার করে। দলের বিরুদ্ধে তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেন কি না তাঁর জন্য আরও কিছুটা হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। এর মাঝে মঙ্গলবার বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত দাবি করলেন যে, জন সূরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর তাঁকে ফোন করেছিলেন। এর পাশাপাশি, তৃণমূলের কর্পোরেট কালচারের নিন্দাও করেন।

দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করায় বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা বর্তমানে ৭৮। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই বিধায়কের প্রয়োজন ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থন। সূত্রের খবর, দুই বিধায়কের কাছেই সেই সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, “আজ সকালে প্রশান্ত কিশোর আমায় ফোন করেছিলেন। ২০২০ সালের পরে এই প্রথম তাঁর সঙ্গে কথা হল। সবটাই খুলে বলা হয়েছে। এছাড়াও দিল্লির অনের নেতা আমায় ফোন করে সবটা জানতে চেয়েছিলেন। তাঁদের জানিয়েছি।”

তাঁর দৃঢ় বক্তব্য, “আমি এবং সন্দীপন মনে করেছিলাম আমাদের দু'জনের হুইসলব্লোয়ারের কাজ করা প্রয়োজন। কারণ যা হচ্ছিল তা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।”

পূর্ত দপ্তরের একাধিক দুর্নীতির কথা তুলে ধরে দাবি করেন, “সব কিছুর একটা নেক্সাস চলত। পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা বিভিন্ন বিভাগে এমডি-রা ক্যামাক স্ট্রিটে কতক্ষণ বসে থাকতেন। কত বন্ড পৌঁছত, কত টাক পৌঁছত? সব কিছুর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু উলুবেড়িয়াতেই দুর্নীতি থেমে থাকেনি।”

তিনি বলেন, “আমি এবং সন্দীপন যা জানি, আমরা তো আর কেন্দ্রীয় এজেন্সি নই যে তদন্ত করব। কাল থেকে উলুবেড়িয়া যাতায়াত করছি, গদ্দার, বেইমান শুনছি। কিন্তু চোর অপবাদ শুনতে হচ্ছে না। আমায় কোনও নিরাপত্তাও নিতে হয়নি। আবার ২৬ দিন বাড়িতে বসেও থাকতে হয়নি।”

সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, মঙ্গলবারই বিধানসভায় তিনি আর সন্দীপন সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন কি না? উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “আমি কোনও জল্পনায় ইন্ধন দেব না। যা হবে তা আমিও দেখতে পাব, আপনারাও দেখতে পাবেন।”

তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তাঁকে অনেক বিধায়ক ফোন করেছেন। তাঁর সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। এমনকি এক দাপুটে বিধায়কও তাঁকে ফোন করেছিলেন বলে দাবি করেন ঋতব্রত।