দীক্ষা ভুঁইয়া: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়ে ১৫ শতাংশ বকেয়া মকুবের আবেদন জানাল রাজ্য সরকার।
2
10
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্টেটাস রিপোর্টের পাশাপাশি পিটিশন দাখিল করে এই আবেদন করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার চলতি বাজেটে অতিরিক্ত ডিএ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবুও পূর্ববর্তী বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনেই এই রিপোর্ট ও আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
3
10
স্টেটাস রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট আর্থিক দায় ১১,৯৮৩ কোটি টাকা। এই অর্থ চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের কোষাগার প্রায় শূন্য! ফলে একেবারে মহার্ঘ ভাতা মেটানো সম্ভব নয়।
4
10
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকারের দাবি, ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই প্রথম কিস্তিতে ৭,৭৭১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি, ২০২৭ সালের জুলাই এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে তিন দফায় পরিশোধ করা হবে।
5
10
সরকার আদালতে জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র হিসাব ২০০৮-২০১৫ এবং ২০১৬-২০১৯—এই দুই পর্যায়ে ভাগ করে করা হচ্ছে। প্রতিটি কর্মীর প্রায় ১৪১ মাসের পৃথক হিসাব করতে হচ্ছে।
6
10
রাজ্যের অধীনে বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর তথ্য যাচাই, ৯০টি ট্রেজারি থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন দপ্তরের পৃথক বেতন কাঠামো এবং ২০১৬ সালের আগের বেতন সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল আকারে সংরক্ষিত না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল বলে আদালতে দাবি করেছে রাজ্য। পুরনো রেকর্ড ডিজিটাইজ করতে নতুন পোর্টাল চালুর কাজও চলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
7
10
এছাড়া প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মীর ই-সার্ভিস বুক প্রস্তুতের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে সরকার। এই প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।
8
10
স্টেটাস রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডিএ মূলত মূল্যবৃদ্ধিজনিত ক্ষতিপূরণ হলেও মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক নয়। একই সঙ্গে জিএসটি থেকে রাজ্যের আয় হ্রাস এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনজনিত অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে রাজ্যের উপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে বকেয়া ডিএ-র ১৫ শতাংশ মকুবের আবেদন জানানো হয়েছে।
9
10
যদিও কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক (বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে মামলাকারী একটি সংগঠন)-এর তরফ থেকে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তাঁরা।
10
10
কনফেডারেশনের বক্তব্য, রাজ্য ছাড়ের আবেদন জানাতে পারে, তবে কর্মীদের অবস্থান স্পষ্ট—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র ১০০ শতাংশই দ্রুত পরিশোধ করতে হবে এবং আদালতে সেই দাবিই তুলে ধরা হবে।