দীক্ষা ভুঁইয়া, বিউ সরকার: পুরনো ঘটনায় এবার পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ। একাধিক অফিসারকে সাসপেন্ডের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার বিধানসভায় তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি কয়েকটি ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলাও দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং সেই ঘটনার জেরে রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর জন্য দায়ী তৎকালীন এসআই হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এরপর অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে বটতলা থানায় দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার তদন্তকারী অফিসার এসআই সাধন দাস এবং তৎকালীন আইসি সুবর্ণ দত্তকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক নির্দেশেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিক ঘটনায় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সব অভিযোগ এখন একে একে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা আইন প্রয়োগে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত মিলছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রশাসনে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। কোনও পুলিশ আধিকারিক বা সরকারি কর্মী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন না করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও রুজু করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ, যেসব ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং সেই সময় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের তরফে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপে সেই অভিযোগগুলির প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত মিলছে।
















