বিভাস ভট্টাচার্য: যেন সেই 'ওরা থাকে ওধারে'। মাঝে কিছু ব্যারিকেড, পুলিশের উপস্থিতি, দু'দিক থেকেই আসছে ঘন ঘন স্লোগান। বিষয়টি কিন্তু এরকম নয়, যুযুধান দুই পক্ষের আচমকা মুখোমুখি দেখা হয়ে গিয়েছে। দুই পক্ষই কিন্তু আন্দোলন করছেন একই 'ইস্যু' নিয়ে। নিট পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের মতো বিষয় নিয়ে। একপক্ষ ছাত্র পরিষদ, অন্যপক্ষ বাম সমর্থিত ছাত্র ইউনিয়নগুলি। আলাদা আলাদা মিছিল করে শুক্রবার তারা তাদের পূর্ব ঘোষণা মতো ধর্মতলায় এসে পৌঁছলেও 'এক' হয়ে যেতে পারেনি। মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য কিন্তু দুই পক্ষের এক বা অভিন্ন। বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
অথচ এই লক্ষ্যে পৌঁছতে যখন বাম, তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি 'ইন্ডিয়া' জোট তৈরি করে তখন কিন্তু বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে তারা একসঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। ঠিক হয়েছিল এটা শুধু কথাতেই থেমে থাকবে না। বাস্তবেও এর প্রতিফলন ঘটবে। কিন্তু আদতে তার প্রতিফলন কিন্তু অন্তত শুক্রবার দেখা যায়নি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এবং কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন আলাদা আলাদা করে মিছিল করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের তরফে ওইদিন কোনও মিছিলের ডাক দেওয়া হয়নি।
যদিও বাম শিবিরের সিপিএম নেতা কৌস্তুভ চ্যাটার্জি বা কংগ্রেস নেত্রী মিতা চক্রবর্তী বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের দু'জনের কথারই সারবত্তা হল, লক্ষ্য এক রেখে রাজনৈতিক দলগুলি আলাদা আলাদা কর্মসূচি নিতেই পারে কিন্তু তারজন্য সার্বিক ঐক্য বাধাপ্রাপ্ত হয় না।
তত্ত্বগতভাবে দু'জনের দাবিই সঠিক। কিন্তু বাস্তব হল যেখানে ঐক্যের প্রদর্শন দরকার হয় সেখানে কিন্তু এই 'আলাদা' শব্দটা একটু অন্য বার্তা বহন করে। ঐক্য বা একতা ফুটিয়ে তুলতে শুধুমাত্র হাত ধরাধরি করে ছবি তুললে সেখানে নেতাদের মধ্যে ঐক্য ফুটে উঠতে পারে। সেই ঐক্য কিন্তু নিচুতলায় পৌঁছয় না। কথায় ঐক্য যদি কাজের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত না হয় তবে সেটার কিন্তু কোনও অর্থ থাকে না। গন্ধহীন পলাশ ফুল। কারণ বিষয়টা তখন কার মিছিলে কত লোক হল সেরকম একটা আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। মনে রাখতে হবে যুগে যুগে শাসকের কাছে কিন্তু একটাই লক্ষ্য থাকে, বিরোধীরা যেন ছন্নছাড়া অবস্থায় থাকে। কারণ, বিরোধী ঐক্যের সহাবস্থান শাসকের চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে।
















