মিল্টন সেন, হুগলি:  ছাগল চুরি নিয়ে বিবাদ। এর জন্য খুন করা হয় তপনকে। ঘটনাটি চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত নন্দীর মাঠ এলাকার। ছাগল চুরি করে বন্ধুরা  পিকনিক করেছিল। জানতে পেরে চুরির ঘটনার কথা যার ছাগল তাকে জানিয়ে দেয় তপন মালিক। এরপরই তপনকে রাস্তায় মারধর করে অনুপম দাস ও অরুন পাশোয়ান। এলাকার মানুষ তাদের হাত থেকে তপনকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ১২  জুলাই ২০২১ সালের ঘটনা। 

তপনের মা রীতা মালিকের অভিযোগ ওই দিন রাতে ঠাকুমার সাথে বাড়িতে ছিলেন তপন। সেসময় আবার তাদের বাড়িতে চড়াও হয় অভিযুক্তরা। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় তপনকে। সাড়া রাত বাড়ি ফেরেনা ছেলে। পরের দিন সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয় নন্দীর মাঠ এলাকা থেকে। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে তপনের মা পুচি দাস, বিট্টু দাস, অনুপম দাস এবং অরুন দাস চার জনের নামে চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।


চুঁচুড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গাঙ্গুলি জানান, চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের হলেও তদন্ত শেষে তদন্তকারী অফিসার ৮  অক্টোবর ২০২১ তারিখে চার্জশিট জমা দেন। ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন ঘটনার সাক্ষ্য দেন। চার জনের মধ্যে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাদের মামলা থেকে মুক্তি দেয়। বাকি দুই অভিযুক্ত অনুপম দাস ও অরুন পাশোয়ানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।

মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারকে রিন্টু সুর দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকার জরিমানা ধার্য করেন। অনাদায়ে আরও ৬ মাস সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘসময় পর রায় ঘোষণা হলেও এই রায়ে খুশি মৃতের পরিবার।