আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোটা দেশ তথা রাজ্যেও এ বার চালু হতে চলেছে ভিবি জি রামজি প্রকল্প। ক্ষমতায় এসে আগেই বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই রাজ্যে চালু হবে এই প্রকল্প। এর ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে দাবি সরকারি তরফে।

 

নতুন এই প্রকল্পের নাম বিকশিত ভারত রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ। যার সংক্ষিপ্ত নাম ভিবি জি রামজি। যা পূর্বের 'মনরেগা' প্রকল্পের পরিবর্তে চালু করা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ১৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ রাজ্য। মূলত ২০৪৭ সালের 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

 

নয়া এই প্রকল্পের আওতায় এখন থেকে গ্রামীণ পরিবারের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বেড়ে হবে ১২৫ দিন। করা হয়েছে। প্রক্লপের অধীনে জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিকাজের সুবিধার জন্য বীজ বোনা ও ফসল কাটার সময় বছরে ৬০ দিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হবে। যাঁদের জব কার্ড রয়েছে, তাঁরা কাজের আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না পেলে সরকারের বেকার ভাতা পাবেন। এছাড়া মজুরি হাতে পেতে দেরি হলেও থাকবে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা।

 

জানা গিয়েছে, প্রকল্পে যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখা হবে। প্রকল্পের পিছনে মোট ব্যায়ের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শ্রমিকদের মজুরিতেই খরচ করতে হবে। তবে প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি এবং জিও-ট্যাগিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া, জবাবদিহি বাড়াতে পঞ্চায়েত স্তরে সোশ্যাল অডিট এবং জেলা স্তরে ওম্বাডসম্যান ব্যবস্থা চালু করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের আমলে কার্যকর হয় 'মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫' (মনরেগা)। যার ফলে গ্রামীণ ভারতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চালু ছিল। সেটিই বিজেপি সরকারের আমলে বদলে করা হয়েছে 'ভিবি জিরামজি'। নতুন আইন অনুযায়ী, দেশের সমস্ত রাজ্যের শ্রমিকরাই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। এই আইন আনার আগে সংসদে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। আইনের বিরোধিতা করে ইন্ডিয়া জোট-সহ অন্যান্য বিরোধী দল। তাদের দাবি, ছিল যেখানে আগের প্রকল্পে কেন্দ্র বরাদ্দ অর্থের ৯০ শতাংশ এবং রাজ্য ১০ শতাংশ দিত। নয়া প্রকল্পে রাজ্যের উপর বরাদ্দ অর্থের ভার বাড়িয়ে তাদের চাপে রাখা হচ্ছে। তবে শেষমেশ বিরোধিতা সত্ত্বেও সংসদে পাশ হয় এই আইন।