আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিবিআই নয়, মালদার মোথাবাড়ির ঘটনায় জাতীয় তদন্দকারী সংস্থা (এনআইকে)-কে তদন্তভার দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এনআইএ তদন্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার৷
বুধবার থেকে উত্তাল মালদহ। মালদহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ঘটনার তদন্ত করবে সিবিআই বা এনআইএ। এর আগে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছিল যে, ঘটনার তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পরে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের তরফে যখন চিঠি প্রকাশ করা হয়। সেই চিঠি থেকেই জানা যায় যে, মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনায় জাতীয় তদন্দকারী সংস্থা (এনআইকে)-কে তদন্তভার দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, আগামিকাল শুক্রবারেই (৩ এপ্রিল, ২০২৬) বাংলায় এসে পৌঁছবে এনআইএ তদন্তকারী দল৷ কলকাতা থেকে তদন্তকারীরা মালদহের মোথাবাড়ি যাবেন।
জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট আগামী ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের কাছে পেশ করবে এনআইএ। সেদিন উপস্থিত (ভার্চুয়াল ) থাকতে হবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার অধিকারিককে।
মোথাবাড়ির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরী-ও।
বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহ। এসআইআর-এর নাম বাদ পড়ার ক্ষোভে, পথ অবরোধে বসেন স্থানীয়রা। তুমুল বিক্ষোভের মাঝে আটকে পড়েন, বিচারক, জুডিশিয়াল অফিসাররা। তাঁদের উদ্ধার করার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উত্তেজনা ছড়ায় দফায় দফায়।
বৃহস্পতিবারেই, মালদহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। মালদহের দফায় দফায় বিক্ষোভের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদহ পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে জানানো হয়।
উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই ভোট আবহে, মালদহ পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে দু'টি জনসভা করেই, মালদহে পৌঁছন মমতা। বৈষ্ণবনগরে গিয়ে মমতা বললেন, 'মালদহে কংগ্রেসিদের অত্যাচারে গণ্ডগোল হল। আমি বলছি ক্ষোভ আছে মানুষের। আমারও ক্ষোভ আছে, সেই আক্রণেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছি। কী দরকার ছিল এই রায় বেরনোর পর জাজেদের আটকে রাখা? যাঁরা করেছেন, তাঁদের একটাকেও যেন ছাড়া না হয়।'
তৃণমূল সুপ্রিমোর সাফ বলেন, 'এটা আমাদের দলের কোনও পরিকল্পনা নয়। আমরা লড়ে নেব শান্তিতে। আমরা দাঙ্গার পক্ষে নই।'৷














