আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে তৃণমূল দল আর টিকিট দেয়নি। তাঁর পরিবর্তে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল সামশেরগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলামকে। 

যদিও এবারের নির্বাচনে ফরাক্কা বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। একুশের নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দল প্রথম স্থানে ছিল, এবারের নির্বাচনে তারা তিন নম্বর স্থানে নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত, ফরাক্কা আসনে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন মহাতাব শেখ। 

রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরাক্কার সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কৃতজ্ঞতা জানান। এর পাশাপাশি মনিরুল জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ খুব শীঘ্রই তিনি জানিয়ে দেবেন। 

মনিরুল বলেন," রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতি, কাটমানি, দাদাগিরির বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এমন মুখ্যমন্ত্রী আগে থাকলে দুর্নীতিমুক্ত পশ্চিমবাংলা তৈরি হতো। "

এরপরই মনিরুল জানিয়ে দেন," এবছরের ১৭ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে আমাকে বাদ দিয়ে সামশেরগঞ্জ থেকে একজনকে নিয়ে এসে ফরাক্কা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়। যদিও সেই প্রার্থীকে ফরাক্কার মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তারপরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বের তরফ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি, আমিও তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আসলে আমি তৃণমূল দল ছাড়িনি, তৃণমূল দলই আমাকে ছেড়ে গিয়েছে।"

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে মনিরুল 'বিদ্রোহী' হয়ে ওঠার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি মুর্শিদাবাদে জনসভা করতে এসে তাঁকে কড়া বার্তা দিয়ে যান। এমনকী তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই সময় নিজের পুরনো অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছিলেন মনিরুল। যদিও আজ মনিরুল সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূল দল আর করবেন না। 

 

ফরাক্কার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এরপর বলেন," যে দলে আমার কদর, সম্মান এবং ইজ্জত নেই সেখানে আমি আত্মসম্মান বলিদান দিয়ে থাকতে পারিনা। প্রত্যেকেরই নিজস্ব মান সম্মান রয়েছে। তাই আমার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমি নতুন করে নিজের রাজনৈতিক চলার পথ ঠিক করব। "

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে মনিরুল বলেন," ওই দলে একনায়কতন্ত্র চলে। দলের রাজ্য এবং জেলা কমিটি আছে কি নেই তা আমার জানা নেই। ওই দলে একজনই (পড়ুন অভিষেক ব্যানার্জি) সব সিদ্ধান্ত নেয়। দলের প্রার্থী ঠিক করা নিয়ে ছেলেখেলা করতে গিয়ে ৭৪ জন বিধায়ককে উনি টিকিট দেননি এবং ১৫ জন বিধায়কের আসন পরিবর্তন করেছেন। তৃণমূল দলের মধ্যে এই রাজতন্ত্র এবং জমিদারি প্রথা আমি মানি না।"

 তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মনিরুল বলেন," মমতা ব্যানার্জির প্রতি আমার এখনও অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে আমার পক্ষে তৃণমূল দল করা সম্ভব নয়। মমতা ব্যানার্জির ভাইপো পশ্চিমবঙ্গকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। তিনি অবাধে লুটতরাজ , সিন্ডিকেটরাজ চালিয়েছেন। মানুষকে সম্মান দেননি। তাই অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্বে আমি দলদাস হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করতে পারব না। আমি আমার অনুগামী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছি। আগামী দিন কী সিদ্ধান্ত নেব শীঘ্রই জানিয়ে দেব।"