আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অলিন্দে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই ভিন্ন সুর শোনা গেল ডোমকলের বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের গলায়। বিধানসভার অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের এক গভীর দর্শন মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই মোস্তাফিজুর স্মরণ করেন বাংলার প্রবাদপ্রতিম মুখ্যমন্ত্রী ও জননেতাদের। বিধানসভার গরিমা রক্ষায় তিনি উল্লেখ করেন বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং সদ্য প্রাক্তন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাম। নবনির্বাচিত স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই কক্ষের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে যা আমাদের প্রত্যেকের রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত।

সংখ্যার বিচারে তাঁর দল ছোট হলেও, মোস্তাফিজুর রহমানের গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব আওড়ে তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমরা জানি হাউস বিলংস টু দ্য অপোজিশন (House belongs to the Opposition)। বিধানসভা বা লোকসভা আসলে বিরোধী পক্ষের জায়গা।" তাঁর দাবি, সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে যেন বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে চাপা দেওয়া না হয়। সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করাই যে বিরোধীদের কাজ, সেই অধিকার রক্ষার দায়িত্ব তিনি স্পিকারের কাঁধে অর্পণ করেন।

প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বা হাসিম আব্দুল হালিমের নিরপেক্ষতার উদাহরণ টেনে নৌশাদ আবেদন করেন, স্পিকার যেন অভিভাবকের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিরোধী দলের সদস্যদেরও সমান গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দেন। উত্তেজনাপূর্ণ এই রাজনৈতিক আবহে মোস্তাফিজুর রহমানের এই ভাষণ যেন সংসদীয় শিষ্টাচারের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। সংখ্যার লড়াই ছাপিয়ে দিনশেষে জয় হোক গণতন্ত্রের—এই বার্তাই ফুটে উঠেছে তাঁর বক্তব্যে।