আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজিকর কাণ্ডে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য। সাসপেন্ড করা হল কলকাতা পুলিশের তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের এই তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের কী ভূমিকা ছিল, আদৌ তাঁরা পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সাসপেন্ড না করে তদন্ত করা যাবে না এই তিন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, লিখিত চেয়েছিলাম আরজিকরের ঘটনার ব্যাপারে।'
তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তার পরের কিছু বিষয় নিয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানতে সম্প্রতি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কাজ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। ওই সময়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটাকে বিপথে পরিচালিত করা, সঠিক ভাবে এফআইআরের পর তদন্ত না করা। যেটা পুলিশের করা উচিত ছিল। আমরা মূল তদন্তের দিকে যাচ্ছি না। কারণ, ওটা সিবিআই করছে, আদালতে মামলা বিচারাধীন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র আমাদের সরকারের যে লোকরা ছিল বিশেষ করে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন সিপি সহ যারা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করব। সবচেয়ে বড় অভিযোগ যেটা, আমাদের কাছে সংবাদমাধ্যম মারফত নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ এসেছে যে দু'জন পুলিশ অফিসার রাজ্য সরকারের তরফে টাকা দিতে চেয়েছিলেন অভয়ার পরিবারকে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'তদন্ত করতে হবে আদৌ অভিযোগ সত্যি কিনা। কিন্তু আমরা মনে করি যে এই তদন্তগুলি করতে গেলে যে অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের সাসপেনশনে রেখে তদন্ত করতে হবে। নইলে, তদন্তে স্বচ্ছতা থাকবে না। সিবিআইয়ের তদন্তে আমরা ঢুকছি না।'
তিনি জানান, 'আমরা শুধু পরিস্থিতিটাকে বিপথে চালিত করা, এক ধরনের ঘুষ দেওযার অভিযোগের বিরুদ্ধে তদন্ত করব। ওনাদের কথাও শোনা হবে, নির্যাতিতার পরিবার যদি চান ওনাদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। পারিপার্শ্বিক যা আছে ফোন রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এগুলো আমরা একে একে বের করব যে ওই অফিসারদের সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে।'
শুভেন্দু আরও বলেন, 'আর সংবাদমাধ্যমের সামনে একজন ডিসির ব্যবহার এবং ভাষা এটা আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে খুব একটা সুখকর ছিল না। ওনাকে আরজিকর ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার জন্য কেউ লিখিত অনুমতি দেয়নি। আমরা তিনজন আইপিএসকে সাসপেন্ড করছি। বিনীত গোয়েল(বর্তমান এডিজি আইবি), ইন্দিরা মুখার্জি এবং অভিষেক গুপ্তা। এই তিনজনকে আমরা সাসপেন্ড করলাম।'















