ইন্দ্রজিৎ সাহু: প্রতিদিনের মতোই সকাল থেকে ব্যস্ততা শুরু হয় ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রান্নাঘরে। এখানে সেল্ফ–হেল্প গ্রুপের মহিলারা মিলে গড়ে প্রায় ২০০ জন রোগীর জন্য রান্না করেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিয়ম মেনে সময়মতো খাবার পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু হঠাৎ করেই গ্যাস সঙ্কটের জেরে চরম সমস্যার মুখে পড়েছে এই রান্নাঘর। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন রোগীদের খাবার রান্না করতে অন্তত দুটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। সেই গ্যাসের জোগান হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন রান্নার দায়িত্বে থাকা সেল্ফ–হেল্প গ্রুপের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রান্নাঘরে মজুত থাকা গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। নতুন করে বুকিং করা হলেও এখনও পর্যন্ত সিলিন্ডার সরবরাহের কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

রান্নার দায়িত্বে থাকা মহিলাদের কথায়, রোগীদের খাবার সরবরাহের পরিষেবা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই শুক্রবার থেকে কাঠের জ্বালানিতে রান্না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এত সমস্যার মধ্যেও রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের মেনুতে কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। সীমিত পরিকাঠামো এবং বাড়তি কষ্টের মধ্যেও রোগীদের জন্য নিয়ম মেনে খাবার তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রান্নাঘরের কর্মীরা। এই গ্যাস সঙ্কটের পিছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি স্থানীয় মহলের। এদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবারই ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন সেল্ফ–হেল্প গ্রুপের সদস্যরা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং রান্নাঘরের সমস্যা মেটানোর দাবিও জানানো হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীদের খাবার পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রেখে প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।