আজকাল ওয়েবডেস্ক: লৌকিক আর অলৌকিকের সীমানা মুছে গেল। কলিযুগের মহাদেব বলে কথা, তাই তাঁর বিয়েতে আধুনিকতার ছোঁয়া থাকবে না- তা কি হয়? নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী শিবের বিয়ে ঘিরে রবিবার ভোরে এমনই এক জমজমাট দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী।
আর পাঁচটা সাধারণ সামাজিক বিয়ের মতোই সেখানে 'যৌতুক' হিসেবে সাজিয়ে রাখা হল রেফ্রিজারেটর, রঙিন টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে নামী কোম্পানির দামি মোটরবাইক। এমনকী চৈত্র শেষের গরমের কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছিল এসি-ও!
নবদ্বীপের বুড়োশিবতলা শিব মন্দিরে আয়োজিত এই ‘হাই ভোল্টেজ’ বিবাহ উৎসবকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই ছিল সাজ সাজ রব। পাত্র স্বয়ং দেবাদিদেব, আর পাত্রী উমা। একদিকে যখন আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ, অন্যদিকে তখন চলেছে বরযাত্রী ও অভ্যাগতদের ভুরিভোজের এলাহি প্রস্তুতি। মেনুও নেহাত মন্দ নয়- লুচি, হরেক রকমের সবজি থেকে শুরু করে মিষ্টিমুখের জন্য বোঁদে। সঙ্গে ছিল খিচুড়িও।
রীতি অনুযায়ী, রবিবার ভোররাতে ব্রহ্মমুহূর্তে বাদ্যযন্ত্রের গর্জন আর আতসবাজির রোশনাইয়ে পালকিতে চেপে হাজির হন বরবেশে ভোলানাথ। বেহারাদের কাঁধে চড়ে মহাদেবের সেই আগমনে উল্লাসে ফেটে পড়েন ভক্তরা। উল্টোদিকে নববধূর সাজে তখন তৈরি পার্বতী। এরপর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে শুরু হয় মূল পর্ব- শুভদৃষ্টি ও মালাবদল, সাতপাক, চার হাত এক হওয়া।
বিয়ের আসরে সাজানো আধুনিক সব আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম আসলে এক প্রতীকী লোকাচার। ভক্তদের মতে, শিব এখানে ঘরের ছেলে। তাই ঘরের মেয়ের বিয়েতে বাবা-মা যেমন সাধ্যমতো যৌতুক দিয়ে সাজিয়ে দেন, ভক্তরাও ঠিক সেই আবেগ থেকেই দেবতাকে অর্পণ করেছেন আধুনিক জীবনের এই সব সামগ্রী।
রাতভর ঢাকের বাদ্যি আর ব্যান্ডপার্টির সুরে নাচে-গানে মাতোয়ারা ছিল নবদ্বীপ। ধর্ম আর লোকসংস্কৃতির এই মেলবন্ধনে শিবের বিয়ে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান রইল না, হয়ে উঠল এক বিশাল সামাজিক মিলন উৎসব।















