আজকাল ওয়েবডেস্ক: SIR শুনানিতে এবার ডাক পড়ল সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধরের। জানা গেছে, তাঁর বাবার নামের একটি সামান্য ভুলের কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। খসড়া তালিকায় যেখানে বাবার নাম পীযূষ ধর থাকার কথা, সেখানে তা ভুল করে 'গিজুষ ধর' হিসেবে ছাপা হয়েছে। এই সামান্য ভুলের ভিত্তিতেই দীপ্সিতাকে SIR শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দীপ্সিতা ধর ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং মানুষকে হয়রানি করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, “এগুলো খুব সাধারণ দপ্তরীয় ভুল। নামের বানান বা তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা করে শুনানিতে ডেকে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই। এই কাজগুলো টেবিলেই ঠিক করা যায়। কিন্তু তা না করে মানুষকে বারবার ডেকে এনে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, SIR-কে ব্যবহার করে ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দীপ্সিতা প্রশ্ন তোলেন, শুভেন্দু বারবার বলছেন SIR-এর মাধ্যমে বহু নাম বাদ পড়বে। উনি কী করে জানেন? আগাম এই নিশ্চয়তা কোথা থেকে আসছে? তাঁর দাবি, এই ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে পুরো প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ নয়।
দীপ্সিতা ধর আরও জানান, মুর্শিদাবাদের বৈষ্ণব নগর এলাকায় একটি বুথে মোট ৯০০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫৮০ জনের নাম SIR শুনানির তালিকায় এসেছে। তিনি বলেন, "এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এলাকাটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে শুনানিতে ডাকার ঘটনা স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ বলে মানা যায় না। এতে স্পষ্টভাবে টার্গেট করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।”
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশজুড়ে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকেই অভিযোগ উঠছে, সামান্য নামের ভুল, নথিগত অসংগতি বা বানান বিভ্রাটের জন্য সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী, সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পর্যন্ত বারবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই শুনানিগুলি অপ্রয়োজনীয় হয়রানির চেহারা নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া SIR সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্পষ্ট ক্লারিকাল ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে এবং অকারণে কাউকে শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন এটাও স্পষ্ট করেছে যে SIR-এর উদ্দেশ্য ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কোনওভাবেই নাগরিকদের ভয় দেখানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নয়।
তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, তৃণমূল স্তরে বাস্তব চিত্র কমিশনের এই অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না। দীপ্সিতা ধর বলেন, এই প্রক্রিয়া যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আতঙ্কিত হবে। গণতন্ত্রে ভোটাধিকার রক্ষা করার বদলে যদি মানুষকে ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
SIR শুনানি ঘিরে দীপ্সিতা ধরকে ডেকে পাঠানোর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রশাসনিক উদ্যোগ আদৌ কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, আর কতটা তা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রান্তিক মানুষদের উপর চাপ সৃষ্টি করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
