‌আবু হায়াত বিশ্বাস, দিল্লি: বাংলায় এসআইআরের নামে বিজেপির কথায় কাজ করছে কমিশন। প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ ভোটারদের নাম ‘বিবেচনাধীন’। এই অবস্থায় প্রদেশ কংগ্রেস দাবি করল, বাংলায় ভোট ঘোষণার আগে এই ‘‌যোগ্য’‌ ভোটারদের তালিকাভূক্ত করতে হবে। 

 

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে যায় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পরে ২৪, আকবর রোডে দলীয় দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করেন। এদিন নির্বাচন কমিশনে গেলেও তাঁরা দেখা পাননি মু্খ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ অন্য কমিশনারদের। 

 

তবে তাঁদের দাবিপত্র কমিশনের দপ্তরে পেশ করেছেন কংগ্রেস নেতারা। বাংলার কংগ্রেস নেতারা সাফ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সমস্ত যোগ্য ভোটারদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার পরেই যেন ভোট ঘোষণা করে কমিশন। 

 

এদিন কমিশনের কাছে মূলত তিনটি দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতার। সেগুলির অন্যতম হল ‘‌বিচারাধীন’‌ ভোটারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে কমিশনকে। সব আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না। 

 

ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে হবে কমিশনকে। কংগ্রেসের দাবি, এই পদক্ষেপ না নিলে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। 

 

গত কিছু দিন ধরেই দল অভিযোগ করে আসছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিবেচনাধীন রেখে ভোট ঘোষণা করার ষড়যন্ত্র করেছে বিজেপি ও কমিশন। এদিন কমিশনে কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার, ইশা খান চৌধুরি, আশুতোষ চ্যাটার্জি, প্রসেনজিৎ বসুরা দাবিপত্র তুলে দেন। 

 

রাজ্যের যথেচ্ছভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। দলের সাংসদ ইশা খান চৌধুরি একেবারে তথ্য পরিংসখ্যান তুলে ধরে দেখান মালদহের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন করে রাখা হয়েছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করেছ কমিশন। এভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। 

 

ইশা অভিযোগ করেন, মালদহের হবিবরপুর বিধানসভায় ৭৭ হাজারের বেশি বিবেচনাধীন, গাজোলে ৩২,৩৯১, চাঁচলে ৭৩,৮৯৬, হরিশচন্দ্রপুরে ৯১,৯৭৮ জনের নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিবেচনাধীন ৯৪,৭৩৭। মানিকচকে ৬৪,৪৯৬, ইংরেজবাজার ৩৭,৭৭৮, মোথাবাড়ি ৭৯,৬৮২, সুজাপুরে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫১৮ এবং বৈষ্ণবনগরে ৬৭ হাজারের বেশি বিবেচনাধীন তালিকায় নাম রয়েছে ভোটারদের। একেবারে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারকে টার্গেট করে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতাদের। 

 

দলের এসআইআর সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু জানান, দেশের অন্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়ার তুলনায় ভোটার তালিকায় সংযুক্তির সংখ্যা বেশি। অথচ বাংলায় দেখা গিয়েছে, সাড়ে ৯ লক্ষের বেশি আবেদনের পর মাত্র ১ লক্ষ ৮২ হাজার নতুন নাম উঠেছে। অর্থাৎ প্রায় ৮ লক্ষ আবেদন খারিজ করা হয়েছে। দাবি-আপত্তি পর্বের শেষ পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৯৯ হাজার ফর্ম-৭ আবেদন জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৫.৪৬ লক্ষ আবেদন গ্রহণ করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দাবি-আপত্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রায় ৪.৪৭ লক্ষ আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। 

 

প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তুলনামূলকভাবে বিহারে ২১.৫৩ লক্ষ নতুন ভোটার সংযোজন ও ৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, আর তামিলনাড়ুতে ২৭.৫৩ লক্ষ সংযোজন এবং ৪.২৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সব ফর্ম-৬ ও ফর্ম-৭ আবেদনের পুনরায় যাচাই করা হোক।