মিল্টন সেন
দলের পরাজয়ের আবহে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য তথা বলাগড়ের পরিচিত যুব নেত্রী রুনা খাতুন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই হুগলির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রুনা খাতুন টানা তিনবার হুগলি জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ সামলেছেন।
একসময় রাজ্য যুব নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দলের অন্দরে তাঁর প্রভাব এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথাও বহুবার শোনা গিয়েছে।
কয়েক মাস আগেই বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ে শিরোনামে এসেছিলেন রুনা। সেই সময় দু'পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করলেও রুনা খাতুন কখনও প্রত্যাশিত সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক মর্যাদা পাননি।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ কিংবা ভবিষ্যতে বিধায়ক পদপ্রার্থী হিসেবেও তাঁর নাম নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কখনও মুখ খোলেননি তিনি।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং দলের পরাজয়ের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রুনা। তিনি বলেন, ‘মানুষের রায়কে সম্মান জানাতেই হবে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। উন্নয়ন হোক, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে রাজনীতি করতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। রাজনীতি মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি বড় মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু সেটাই একমাত্র পথ নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এতদিন যে সম্পর্ক ছিল, তা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিচ্ছি। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও পরিকল্পনা করিনি। পথই আগামী দিনের দিশা দেখাবে।’
উল্লেখ্য, রুনা খাতুনের স্বামী অরিজিৎ দাস বর্তমানে বলাগড়ের সিজা-কামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের উপপ্রধান পদে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর হুগলি জেলায় একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণার পর রুনা খাতুনের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল।















