আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে নতুন অতিথিকে মুক্ত করতে চলেছে বন দপ্তর। এর আগে প্রাথমিকভাবে ২৯ জুলাই বক্সা'র জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেও, তা স্থগিত করে বন দপ্তর। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে থাকা বেশ কয়েকটি বনবস্তি পুনর্বাসনে সমস্যা এবং আসন্ন বর্ষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে বাঘ পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বন দপ্তর।
এরপরেই নানান আলোচনা ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ২ অক্টোবর বাঘ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় বন দপ্তর। বাঘ পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গভীর জঙ্গলে একটি এনক্লোজার তৈরি করেছে বন দপ্তর। সেখানে বাঘের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে নানান ধরনের খাস ও গাছপালা লাগিয়েছে বন দপ্তর। বাঘের খাবার জন্য ইতিমধ্যে সেই এনক্লোজারের মধ্যে ৫ টি হরিণও ছাড়া হয়েছে। এবার শুধু বাঘ নিয়ে আসার অপেক্ষা।
জানা গিয়েছে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে গরিমা ফেরাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই বাঘ আনার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছিল বন দপ্তর। তবে, নানা জটিলতায় এতদিন তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই, এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে। প্রকল্পের জঙ্গলে বাঘেদের উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে এবং প্রজনন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে বিহার অথবা আসাম থেকে একটি মাদা বাঘ আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদপ্তর।
এদিন বক্স ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে বাঘ পুনর্বাসনের আগে সমস্ত রকমের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকদের নিয়ে জঙ্গলের গভীরে বাঘ পুনর্বাসনের এনক্লোজারের ভেতরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও। এরপর রাজভাতখাওয়া এন,আই,সি তে প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন বনমন্ত্রী। বনমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ মনোজ টিগ্গা, জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার সহ বনদফতরের আধিকারিকরা।
বৈঠকে বন দপ্তরের আধিকারিকরা কিভাবে বক্সা'র জঙ্গলে বাঘ আনা হবে। কিভাবে তাকে ছাড়া হবে এবং তার প্রতি কিভাবে নজর রাখা হবে, সেই সব বিষয় তুলে ধরেন। এদিন বৈঠক শেষে বনমন্ত্রী জানান, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে মাদা বাঘ ছাড়া হচ্ছে। বাঘ ছাড়ার জন্য সবদিক থেকেই প্রস্তুত। বনমন্ত্রী জানান বিহার অথবা অসমের মানস থেকে বাঘ আনার চেষ্টা চলছে।
প্রথমে বাঘটিকে জঙ্গের ভেতরে এনক্লোজারে রাখা হবে। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাঘ আনার জন্য বক্সা জঙ্গলের জয়ন্তী গ্ৰামের বাসিন্দাদের বনছায়া বস্তিতে স্থানান্তরিত করা হবে। গ্রামবাসীদের ঘোষিত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাদের কোনও দাবি দাওয়া থাকলে সেগুলি পূরণ করার চেষ্টা করা হবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
&t=1s














