একসময় নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত সোনা এখন উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে। রেকর্ড উচ্চতা থেকে সোনার আন্তর্জাতিক দাম ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশেরও বেশি কমেছে এবং বর্তমানে তা প্রায় ৪,০০০ ডলারের আশপাশে লেনদেন হচ্ছে।
2
12
বছরের শুরুতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক এই তীব্র সংশোধনের ফলে চলতি বছরে সোনার রিটার্ন নেতিবাচক হয়ে পড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে মূল্যায়ন করছেন, কী কারণে সোনার ঐতিহাসিক ঊর্ধ্বগতির ইতি ঘটল।
3
12
মঙ্গলবারও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতন দেখা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সোনার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
4
12
পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বাজার। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
5
12
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১২৯.৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৪০.৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
6
12
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং টানা চার সপ্তাহের পতনের ধারা ভেঙেছিল। তবে সেই ইতিবাচক প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
7
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও এবার নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সাধারণত সোনার দাম বাড়াতে সাহায্য করলেও বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সেই উত্তেজনার কারণে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
8
12
এছাড়া বাজারে এখনও ধারণা রয়েছে যে চলতি বছরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ আরও অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে। যদিও ফেডের নীতিনির্ধারকদের মতামতে বিভাজন রয়েছে।
9
12
সর্বশেষ ‘ডট প্লট’ কিছুটা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও অধিকাংশ নীতিনির্ধারক মনে করছেন, ২০২৬ সালে সুদের হার বর্তমান স্তরে বা তার নিচেই থাকতে পারে। এই অনিশ্চয়তাও সোনার দামের ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
10
12
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বন্ডের ফলন এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে চাহিদা কমে যায়।
11
12
এদিকে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে চলেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবণতা—সবকিছু মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
12
12
তাই যারা সোনায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, বরং মার্কিন সুদের হার, ডলারের গতিবিধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলির দিকেও সমানভাবে নজর রাখা উচিত।