রিয়া পাত্র


শিতলকুচিতে আক্রান্ত মীনাক্ষী মুখার্জি। নিহত কর্মীর বাড়িতে যান। সেখানেই আচমকা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর গাড়ি আটকে, পরপর ডিম ছোড়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর, বারে বারে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বিষয়টি কি জনরোষ তৃণমূলের উপর? যদি তাই হয় তাহলে কেন ক্ষোভের মুখে মীনাক্ষী? একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল এসএফআই এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য্যর সঙ্গে। কী বলছেন সৃজন? 

সৃজনের বক্তব্য, 'মীনাক্ষীদির সঙ্গে যেটা হয়েছে অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে।'তারপরেই কার্যত একহাত নেন গেরুয়ায় শিবিরকে। বাম নেতা বলেন, 'বিজেপি দেশের সংবিধান, আইন কানুন এগুলো মানে না। ফলে, তারা যখন যেখানে ক্ষমতায় থাকে, শুধু যে তারা সরকারি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে তাই নয়, তার সাথে সাথেই হিটলারের ব্ল্যাক শার্টদের মতো একটা গুণ্ডা বাহিনী, আইন বহির্ভূত গুণ্ডা বাহিনী তারা তৈরি করে। যে গুন্ডা বাহিনীর কাজ হচ্ছে কখনো গো-রক্ষার নামে নামে মানুষ খুন করা। কখনো ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে পার্কে ঢুকে ভাঙচুর করা, কখনো মসজিদ বা চার্চ ভাঙতে চলে যাওয়া, কখনো কোনও লোকের বাড়িতে চলে যাওয়া, তুমি ফেসবুকে কী লিখেছো, কেন লিখেছ বলা নিয়ে। তারই এক্সটেনশন হচ্ছে এই বাহিনীটাকে এখন বিজেপি আনলিশ করে দিয়েছে, বাজারে ছেড়ে দিয়েছে ডিম ছোড়ার জন্য।'


সৃজনের অভিযোগ, এই ডিম ছোড়ার ঘটনা কেবল তৃণমূলের ওপর মানুষের জনরোষ বলে যে বিজেপি চালিয়ে দিতে চাইছে, তা আসলে স্রেফ অজুহাত। বাম নেতা বলছেন, 'এটা আসলে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে আসলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিরুদ্ধ মত, সমস্ত মানুষ যাঁরা, বিজেপির বাইরে গিয়ে অন্যভাবে ভাবতে চান, তাঁদেরকে দমন করার চেষ্টা হবে। এবং সেটাই চালু হচ্ছে। গুণ্ডা দমন আইন থেকে এই গণতন্ত্র, গণপিটুনি কালচার এবং এখান থেকে মুক্তির জন্য মানুষকে একজোট হতে হবে। আমরা বামপন্থীরা এতে ভয় পাব না।'


একইসঙ্গে ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বাম নেতা। বলছেন, 'শুভেন্দু অধিকারীর সাহস থাকলে, আজকে যাঁরা সম্পূর্ণ বিনা কারণে মিনাক্ষী মুখার্জীর গাড়িতে আক্রমণ করলেন, তাঁদের আটক করুন। তবে বুঝব গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটা পশ্চিমবঙ্গে জীবিত আছে।'


 মঙ্গলবার মৃত সিপিএম কর্মী মন্টু মিঞার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ফেরার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মীনাক্ষী মুখার্জি। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। মীনাক্ষী নিজেও ঘটনাটির ভিডিও করেন। 

তাঁর অভিযোগ, মন্টু মিঞার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তা গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি এবং অভিযোগও নেয়নি। তিনি বলেন, শুধুমাত্র শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফেরার পথে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। মীনাক্ষীকে বারবার গ্রেপ্তারির দাবি তোলার সঙ্গেই প্রশ্ন তুলতেও শোনা যায়, 'আমার অপরাধ কী?'