আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার সকালেই রক্তাক্ত জাতীয় সড়ক। খড়গপুর–নারায়ণগড় রুটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। যাত্রীবোঝাই বাস উল্টে প্রাণ গেল একজনের। মৃত একজন মহিলা বলে জানা গেছে। গুরুতর জখম অন্তত ১৫ জন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
শনিবার সকালে মেদিনীপুর থেকে দিঘা যাচ্ছিল বাসটি। তাতে প্রায় ৭০ জন যাত্রী ছিলেন। ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সাঁকোয়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতার আমলাশুলি থেকে দীঘাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস খড়গপুর–নারায়ণগড় জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল। সাঁকোয়া এলাকায় পৌঁছে সামনে থাকা আর একটি বাসকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন চালক। অভিযোগ, সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকাই রাস্তার উপর উল্টে যায় বাসটি। মুহূর্তের মধ্যে ছিটকে পড়েন একাধিক যাত্রী। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসের ভেতরে আটকে পড়েন বহু যাত্রী। স্থানীয় মানুষজন ছুটে এসে বাসের কাচ ভেঙে একে একে আহতদের উদ্ধার করতে থাকেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ। পুলিশ ও এলাকাবাসীদের যৌথ উদ্যোগে আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর।
এই দুর্ঘটনার জেরে খড়গপুর–নারায়ণগড় জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। দু’দিকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকে সরিয়ে রাস্তা স্বাভাবিক করা হয়।
কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, চালকের গাফিলতি ছিল কি না, বাসের গতি অত্যধিক ছিল কিনা। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জাতীয় সড়কে বারবার দুর্ঘটনার ঘটনা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ে। শনিবার সকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যেন আবারও সতর্কবার্তা দিয়ে গেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে।
