আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের আগে আরও সক্রিয় প্রচারে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যের আইনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক একটি ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিষয় থেকে শুরু করে আইনব্যবস্থা-সহ নানা ইস্যুতে শাসকদলের কাছে জবাবদিহি চাইছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে খবর, ‘চার্জশিট’-এ এলাকাভিত্তিক অভিযোগ এবং দুর্নীতি, প্রশাসনিক ত্রুটি ও নাগরিক উদ্বেগ সম্পর্কিত নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই বিষয়গুলি সামনে আনছে। বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ৬৫টি ‘চার্জশিট’ প্রকাশিত হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হবে।
একাধিক নির্বাচনী এলাকায় একসঙ্গে এই ‘চার্জশিট’ পেশ করে প্রচারে আরও জোর দিতে চাইছে বিজেপি। দলের নেতাদের দাবি, স্থানীয় মতামতের উপর ভিত্তি করে ‘চার্জশিট’-এ সমাজকল্যাণমূলক কাজের বাস্তবায়ণে দুর্নীতি, চাকরি সংক্রান্ত উদ্বেগ, জনসুরক্ষাজনিত সমস্যা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিজেপি নেতারা নির্বাচনের সময় বুথ দখলের অভিযোগ, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় রাজনৈতিক সংঘাত, অবৈধ বালি খাদান এবং বিরোধী কর্মীদের ভয় দেখানোর অভিযোগকে শাসনব্যবস্থার উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বিজেপির ‘চার্জশিট’-এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শহরের বিধানসভাগুলিতেও আবাস যোজনার টাকা দেরিতে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। “সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের কাছে আবাসন এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ পাওয়া এখনও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। মানুষের আশ্বাস জোগানে এই সমস্ত প্রকল্পে স্বচ্ছতাই মূল চাবিকাঠি”, দাবি বিজেপির। যদিও তৃণমূল আগে এই সকল অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে খারিজ করে দিয়েছে। শাসকদলের দাবি, তাদের সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতি ‘চার্জশিট’-এর অন্যতম বিষয়বস্তু। “যুবসমাজের কাছে সরকারি চাকরি মানে স্থিতিশীলতা এবং বিস্তর সুযোগসুবিধা। সেই সুযোগ থেকে রাজ্যের যুবসমাজ বঞ্চিত হচ্ছে,” দাবি বিজেপির। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগ বিতর্ক এবং স্কুল-স্তরে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এর ফলে চাকরির খোঁজে থাকা যুবসমাজের আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিরোধীরা এই সব বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরছে।
আইন পরিস্থিতি এবং নাগরিক সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। “সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের জন্য আইনশৃঙ্খলা একটি প্রধান বিষয়। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় হিংসার ঘটনা এবং বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাগুলি প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়,” দাবি বিজেপির। এছাড়াও, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালানের অভিযোগও তুলেছে তারা। এই ‘চার্জশিট’ পেশ করে বিজেপি সাধারণ ভোটারদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চায়, তাঁরা সমাজে নিজেদের কতটা নিরাপদ এবং সুরক্ষিত বোধ করেন? রাজ্য সরকার অবশ্য দাবি করেছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।
নির্বাচিত ৩০টি বিধানসভার নির্বাচনী এলাকার সমস্যাগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বিজেপি। দুর্নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, নিয়োগ, জননিরাপত্তা এবং নারী সুরক্ষার মতো বিষয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনায় বারবার উঠে আসছে। ‘চার্জশিট’-এর চূড়ান্ত প্রভাব কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে বিজেপির মতে, এর প্রকাশ নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
