মিল্টন সেন, হুগলি: সিঙ্গুরে বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার বিশেষ বৈঠকে বিশৃঙ্খলা। মণ্ডলের বৈঠক ডাকা হলেও, রাখা হয়নি কর্মীদের বসার জন্য কোনও চেয়ার। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য উপস্থিত হতেই এই অব্যবস্থা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল। কর্মীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে।

সিঙ্গুরে বিজেপির গোষ্ঠীদন্দ্ব সর্বজনবিদিত। এলাকায় বিজেপির একাধিক গোষ্ঠী। অভিযোগ, সেই গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিয়ে থাকেন জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ। শনিবার সেই ক্ষোভের আগুন প্রকাশ্যে এল। রাজ্য সভাপতির সামনেই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ এবং তাঁর অনুগামীদের প্রকাশ্যেই অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেন কর্মীরা। ‘বন্দেমাতরম’ গান গেয়ে বৈঠক শুরু হতেই সেই সময় বিজেপির কিছু কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বৈঠকে বসতে না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বেশ কিছু তৃণমূলের বৈঠকে উপস্থিত আছেন বলে ক্ষোভ উগরে দেন একজন বিজেপি কর্মী। উত্তেজিত কর্মীদের সামাল দিতে ছুটে যান শমীক। তারপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা বিক্ষুব্ধ কর্মীদের বুঝিয়ে বৈঠক কক্ষে নিয়ে যায়। 

প্রসঙ্গত, এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই হুগলি জেলা কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। এক বিজেপি কর্মীর অভিযোগ, বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জনকে নিয়ে। অভিযোগ, দীপাঞ্জন তাঁর কয়েকজন অনুগামীদের নিয়ে রাজ্যের পদাধিকারবলে জেলা জুড়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বীজ বপণ করে চলেছেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে শাসকদলের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবুও বিজেপি করেছেন। তখন দীপাঞ্জন বা তাঁর অনুগামী সুরেশ সাউদের দেখা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে দলে তাঁদের কোনও সম্মান নেই। সভা সংসদেও আর তাঁদের ডাকা হয় না। 

সম্প্রতি চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে আয়োজিত সভায় সম্মান না পেয়ে প্রকাশ্যেই দীপাঞ্জন এবং সুরেশ সাউ এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দলের মহিলা মোর্চার সদস্যারা। বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, অবিলম্বে জেলা কমিটি গঠন করা হোক। দীপাঞ্জন, সুরেশ এবং ওই গোষ্ঠী দলের অন্দরে থেকে বকলমে দলেরই ক্ষতি করছেন। 

এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেছেন, “ওই দলের সম্পর্কে যত কম বলা যায় ততই ভাল। ওদের সংগঠন বলতে কিছুই নেই। শুধুই জাতপাতের রাজনীতি। সবসময় জাত-ধর্ম-বর্ণের নামে হানাহানি লাগানোর চেষ্টা করে থাকে। এবারে এসআইআরের নামে বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জেতার স্বপ্ন দেখছে।”