আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্দিদশায় কাটিয়ে অবশেষে নিজের দেশে ফিরলেন ১৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছে মাছ ধরার সময় ভুলবশত বাংলাদেশের জলসীমার ভিতরে প্রবেশ করায় তাঁরা বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হন। এরপর তাঁরা সেই দেশের জেলে বন্দি ছিলেন। এই দীর্ঘদিনের বন্দিত্বের অবসান ঘটল যখন বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনী তাঁদের ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করে।

বৃহস্পতিবার এই হস্তান্তরের পর ভারতের উপকূলরক্ষী বাহিনী ১৪ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে পৌঁছে দেয়। 

এরপর শুক্রবার সেখানে পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের ফিরে পেয়ে আবেগে ভেসে যান। অনেকেই আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

ফিরে আসা মৎস্যজীবী শেখর দাস জানান, “১৭ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় স্রোতের টানে আমরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি। এরপর বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী আমাদের আটক করে জেলে রাখে। আজ অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আমরা অত্যন্ত খুশি। এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের বাড়িতে ফিরে আসা আমাদের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত।”

ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর অফিসার সুরেন্দ্র লকরা বলেন, "বৃহস্পতিবার আমরা বাংলাদেশ থেকে একটি ট্রলার-সহ ১৪ জন পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীকে নিয়ে এসেছি। পরে জেলা প্রশাসনের হাতে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগেও আমরা ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে নিরাপদে হস্তান্তর করেছি। এই ধরনের মানবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে সহযোগিতা বজায় রাখা হয়।”

এই ঘটনায় আবারও প্রমানিত হয় সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিয়ম থাকলেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিপদে পড়া জেলেদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। ফ্রেজারগঞ্জে ফিরে আসা ১৪ জন মৎস্যজীবী এখন পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দে ভাসছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।