আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৭ সাল। হঠাৎ বাবাকে হারালেন। বয়স তখন মাত্র ২৩। মাথায় আকশ ভেঙে পড়ল। রাতারাতি তাঁর অবস্থা বদলে গেল। পরিবারের আর্থিক ভার তাঁর উপরে এসে পড়ল। নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে দমানো যায়নি। এত কিছু পরেও, ক্যারাটেতে ভারতের হয়ে ঘরে আনলেন মেডেল! কলকাতাবাসী অনুপমা জানা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পরে অনুপমার পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনুপমার ঘাড়ে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে। তিনি নিজেও আশা করেননি এই গুরুদায়িত্ব এত কম বয়সে তাঁর কাছে আসবে। কিন্তু পিতৃহারা মেয়েটি নিজেই এগিয়ে এসে পরিবারের দায়িত্ব নেন। 

সবে স্কুলের চৌকাঠ পার করেছিলেন তিনি। কলেজের শুরুতেই পিতৃহারা হতে হয়। অনুপমা বুঝলেন দ্রুত উপার্জন শুরু করতে হবে। ফলে, একজন বাইক ট্যাক্সি চালক হিসাবে কলকাতায় কাজ শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিকের মধ্যে ফুরিয়ে যায় তাঁর। অপরিচিতের সঙ্গে কাটে সময়। সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভিড় করে শরীরে, মনে। কিন্তু, সেই ক্লান্তি তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। 

দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিজের স্বপ্নকেও সমান্তরালে সত্যি করে তুলেছেন। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে ঘরে ফিরে রাতে ক্যারাটে অভ্যাস করতেন। পরিবারের হাল শক্ত করে ধরলেও, নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেননি তিনি। এমনকি শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলেও, প্রবল জ্বর গায়েও তিনি ক্যারাটে অভ্যাস করে গিয়েছেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন টুর্নামেন্টগুলিতে অংশগ্রহণ করতে থাকলেন। এলাকার টুর্নামেন্ট থেকে ধীরে ধীরে জেলার, এবং রাজ্য পেরিয়ে দেশকে তিনি তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক স্তরে। জিতলেন সোনার পদক।

তাঁর এই লড়াইয়ের গল্পটা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ব্যবহারকারীদের নজরে এই রকম ঘটনা বিরল। সংবাদমাধ্যমটিকে অনুপমা জানিয়েছিলেন, ‘আমি কখনও মনেই করিনি যে আমাকে ক্যারাটে ছাড়তে হবে। আমার পরিবার আমার উপরে নির্ভরশীল ঠিকই, কিন্তু আমার স্বপ্নও তো আমার উপরেই নির্ভরশীল।’ সোনার মেডেল ঘরে আনার পরেও অনুপমা থেমে থাকেননি। তিনি এখনও নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান এবং ভারতের সেনাদলে যোগ দিতে চান।