বিভাস ভট্টাচার্য
একসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শীলভদ্র দত্ত। উত্তর ২৪ পরগণা জেলার প্রাক্তন বিধায়ক। ২০২০ সালে তিনি ও শুভেন্দু ছাড়া তৃণমূল ছেড়েছিলেন আরও বেশ কয়েকজন ঘাসফুল শিবিরের বিধায়ক। যাদের মধ্যে ছিলেন রাজীব ব্যানার্জি, প্রবীর ঘোষাল, সব্যসাচী দত্ত, রথীন চক্রবর্তী, বৈশালী ডালমিয়া, বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, সৈকত পাঁজা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজীব, প্রবীর, সব্যসাচীরা হেরে যাওয়ার পরেই ফের তৃণমূলে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেন এবং শেষপর্যন্ত আবার তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু থেকে যান বেশ কয়েকজন। যাদের মধ্যে একজন হলেন শীলভদ্র। গেরুয়া শিবিরের হয়ে চালিয়ে গিয়েছেন লড়াই। সফল হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার তৈরি করেছে বিজেপি।
সেদিনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে শীলভদ্র বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আমরা অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষমতার বাইরে না থাকতে পেরে আবার তৃণমূলেই ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু আমরা দলেই থেকে গিয়েছি। যেই লড়াইটা আমাদের তৃণমূলের বিরুদ্ধে ছিল সেটা শেষ হয়েছে।”
শুভেন্দুর সঙ্গে ২০২০-তে একসঙ্গেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন। আজ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে বলতে গিয়ে শীলভদ্র জানান, “সেদিন শুভেন্দু অধিকারী আওয়াজ তুলেছিলেন দুর্নীতিমুক্ত সরকারের। ২০২১ সালে আমরা পারিনি। ২০২৪ সালেও হয়তো বিজেপি এরাজ্যে সেরকমভাবে বিরাট কিছু করতে পারেনি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই স্বপ্ন আমাদের পূর্ণ হল। এসআইআর-এর জন্য বাদ পড়েছে অনেক ভুয়ো ও মৃত ভোটার। ফল ঘোষণার পর একটা জিনিস পরিষ্কার যে তৃণমূল ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের ভোটেই জিতত।”
এই মুহূর্তে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের বিরুদ্ধে ঘাসফুল শিবিরের অনেক নেতাই তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আপনারা যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন কি এই নিয়ে কিছু প্রসঙ্গ তুলেছিলেন?
শীলভদ্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেই সেইসময় দলের ভিতর মুখ খুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি বলেছিলাম এরকম একটা সংস্থা দিয়ে কখনই কোনও রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। সেদিন আমার অভিযোগ যে সঠিক ছিল সেটা আজ প্রমাণিত হয়েছে।”
এই কথা বলার পর কতটা চাপ এসেছিল?
অনেকটাই চাপ এসেছিল বলে দাবি করলেন শীলভদ্র। অভিযোগ করেছেন, একেবারে সর্বোচ্চ স্তর থেকে এই চাপটা এসেছিল। তাঁর কথায়, “এই কথা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পর্যন্ত বাড়ি এসেছিলেন। দেখা করিনি। কারণ আমি জানতাম আমি সঠিক। আজ প্রমাণিত আমিই ঠিক।”
একসময় তৃণমূলের হয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিজেপির হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আজ তৃণমূলের এই অবস্থায় কী বলবেন? কোথাও কি একটু হলেও খারাপ লাগে?
প্রথমে বিষয়টি ‘ওদের’ বলে এড়িয়ে গেলেও শীলভদ্রের কথায়, “রাজনীতিতে এটা প্রমাণিত হেলিকপ্টার থেকে নেমে এলেই নেতা হওয়া যায় না। নীচুতলার থেকেই কর্মী উঠে এসে নেতা হয়। সেজন্যই কর্মীদের তৈরি করতে হয় এবং কর্মীদের গুরুত্ব দিতে হয়। আমার ছেলে বা আমার ভাইপোকে এনে বসিয়ে দিয়ে নেতা বানিয়ে দিলাম সেভাবে কখনও দলের ভাল হয় না। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি তৃণমূলের। ফলে তারাই ঠিক করবে কী করবে আর করবে না।”
এই মুহূর্তে রাজ্যে বিজেপি করার লোকের কোনও অভাব নেই। বিশেষত ভোটের ফল বেরনোর পর রাতারাতি সবাই বিজেপি করতে চাইছে। এটা চোখে পড়ছে?
শীলভদ্র জানান, “দেখুন একটা ঝড় হওয়ার পর কিছু গাছ পড়ে আবার কিছু গাছ থেকে যায়। ঝড় চলেযাওয়ার পর আবার সব ঠিক হয়ে যায়। ‘তৎকাল’ কোনও বিজেপি কিন্তু টিকবে না। টিকবেন তাঁরাই যারা দু:সময়ে বিজেপি দলটা করেছেন।”















