আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার থেকে দফায় দফায় উত্তাল বারুইপুর। নাবালিকা মৃত্যুতে আগে দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সোমবার জানা গেল, গ্রেপ্তারি বেড়ে তিন। সূত্রের খবর, সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়, মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে। এদিন বারুইপুর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। এর আগে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রভাস মণ্ডল-সহ দু'জন।
উত্তাল পরিস্থিতিতে, সোমবার নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দিল। ঘটনাস্থলে যান তৃণমূলের দুই বিধায়ক ও দুই সাংসদ - দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিভাস সরদার। তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
অন্যদিকে সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, শমিক লাহিড়ী-সহ দলের প্রতিনিধি দল। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি। অশান্তি রুখতে মোতায়েন রয়েছে প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগান তুলেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, অর্থাৎ উত্তেজনা, বিক্ষোভ বা বেআইনি জমায়েত রুখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত, রবিবার দেহ উদ্ধারের পর। ৫ জুলাই, রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার দেহ। এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল গতকাল।
পরিবারের তরফে জানানো হয়, শনিবার বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ খাবার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। তারপর আর ফেরেনি সে। রবিবার তার দেহ উদ্ধারের পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামের অভিযুক্ত যুবককে সন্দেহের বশে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, গতকাল নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যথাযথ তদন্তের ও দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী আগামিকাল মঙ্গলবার ভবানী ভবনে যেতে বলেছেন তাঁকে। রবিবার রাতেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্তড়ী মমতা ব্যানার্জি এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি।
















