রিয়া পাত্র: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার এবং তার জেরে অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনিতে পিটিয়ে মারার ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, উত্তেজনার খবর পেয়ে মমতা ব্যানার্জি নিজে বারুইপুর যেতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এবং নেত্রীকে আটকাতে তাঁর বাড়ির সামনে বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন ও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে বলে খবর। দলীয় সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু পুলিশের এই ব্যারিকেড সম্ভবত আগামীকালও থাকবে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য মেলেনি।

ঘটনার সূত্রপাত বারুইপুর থানার ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায়। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর আর ফেরেনি ওই নাবালিকা। রাতভর নিখোঁজ থাকার পর, আজ রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে তার বস্তাবন্দি দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়ে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মাইকিং করতে হয়।

এদিকে, এই ঘটনার পরই ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক স্থানীয় যুবককে সন্দেহের বশে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নাবালিকার দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই ধর্ষণ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।

এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল ঘটনার পাশাপাশি গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাটিরও আলাদাভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃতের সঙ্গে এই নৃশংস অপরাধে আর কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।