আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি বিবাদে জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মেজো দাদা ও তাঁর পরিবার ভাইকে প্রথমে অ্যাসিড ছুড়ে, তারপর দা দিয়ে কোপাল। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবক কলকাতায় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

 

শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর থানার অন্তর্গত যোগীবটতলার মডার্ণ ক্লাবে পাশের এলাকায়। অভিযোগ, আক্রান্ত যুবকের মেজো দাদা মমতাজ খান ও তাঁর পরিবার মিলে টোটন খানকে চরম নির্যাতন করেন। জমি বিবাদে জেরে প্রথমে অ্যাসিড মারেন চোখে, তারপর দা দিয়ে মাথায়, হাতে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপ মারেন। 

 

পরিবার সূত্রে খবর, মমতাজ খান ও টোটন খানের মধ্যে অনেকদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল। কয়েকদিন আগে টোটনের পরিবারের সদস্যদের মারধর করে মমতাজ খানের পরিবার। মমতাজ খানের পরিবারের কয়েকজনকে পুলিশ আটকও করে ছিল। কিন্তু টোটন খানের পরিবারের তরফে অভিযোগের অভাবে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। 

 

শনিবার সকালে অর্থাৎ ইদ উপলক্ষে ওই দিন সকালবেলা থেকেই টোটন খানের পরিবারের ওপর অত্যাচার চালায় মমতাজ খানের পরিবার। সেই অত্যাচার রাতে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। মমতাজ খানের স্ত্রী বেবী খান, জামাই ভিকি ঘোষ, পাশের বাড়ির বাসিন্দা ইয়ারলি খান সহ ছয় জনের একটি দল হঠাৎ টোটন খানের ওপর দা, শাবল, লোহার রড নিয়ে চড়াও হয়। 

 

রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির কাছে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা প্রথমে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁকে। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় টোটন খানকে রাতেই কলকাতায় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে দেন চিকিৎসকরা। 

 

তবে এই ঘটনার পরই গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে মমতাজ খান ও তাঁর পরিবার ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা তাঁদেরকে বাইরে থেকে আটকে রাখেন। রাতে বারইপুর থানার আইসি বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে অভিযুক্ত মমতাজ খানের পরিবারের সদস্যদেরকে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে, পুলিশের হাত থেকে গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদেরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে পুলিশ বাধা দেয়। তা নিয়ে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। 

 

পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এরপর অভিযুক্তদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। আক্রান্ত টোটন খানের পরিবার রাতে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ এই ঘটনায় এক নাবালক-সহ ছয়জনকে আটক করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।