আজকাল ওয়েবডেস্ক: সারা ভারতের আজ চোখ ছিল সুপ্রিম কোর্টে আজ কী হয়। ২৩ বছর পর আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। বাংলায় চলতে থাকা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে মামলা করেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার তিনি শুনানিতে উপস্থিত থাকার আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছিল। শোনা যাচ্ছিল সওয়ালও করতে পারেন তিনি। সেই মতো এদিন শীর্ষ আদালতে হাজির হন মমতা। বুধবার দুপুর ১টার পর সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয় এসআইআর মামলার শুনানি। সেখানে আদালতের অনুমতিতে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ পান মমতা। এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে তোপ দাগেন তিনি। অসমের এসআইআর না হলে ২৪ বছর পর বাংলায় কেন? প্রশ্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তা নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ‘গোল্লা’ পেয়েছেন মমতা।
এসআইআর মামলার শুনানির পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে এসআইআর নিয়ে মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রথমে নির্বাচন কমিশন, দিল্লি পুলিশকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও অহংকারী, মিথ্যেবাদী বলেছেন মমতা।”
সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আদালতে ‘পিটিশনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নিজে সওয়াল করেননি। বরং শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা তাঁকে ঘুরিয়ে থামানোর চেষ্টা করেছেন। গতকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল নিয়ে ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেন একটা বিষ্ফোরণের অপেক্ষায় ছিল ভারত। কোর্টে মমতা ‘গোল্লা’ পেয়েছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভুল ইংরেজি’ নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি সংশোধন করছিলেন। যেভাবে ভুল ইংরেজি বলছিলেন তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার।ঠ তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকে চেষ্টা করছেন এসআইআরকে ভণ্ডুল করতে, আর ২০২৪ সালের বাংলাদেশি এবং মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে।”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এক মাইক্রো অবজারভারের অডিও ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। পাল্টা ৬ নং ফর্ম কয়েকশো জমা পড়েছে কিনা সন্দেহ। অত্যন্ত পরিচ্ছন্নার সঙ্গে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গেছে। আর যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁদের জন্য ৬ নম্বর ফর্ম আছে। এছাড়া ৭ নম্বর ফর্ম আছে।” তিনি আরও বলেন, “ওঁর উদ্দেশ্য মাইক্রো অবজারভার আটকানো। মালদহের এক মাইক্রো অবজারভার পরিচয় গোপন করে আমায় একটা অডিয়ো ক্লিপ পাঠিয়েছেন।”
বিরোধী দলনেতা এদিন ঘোষণা করেন, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিজেপি কর্মীরা রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর 'মিথ্যাচার' তুলে ধরবেন এবং এসআইআর ইস্যুতে প্রকৃত তথ্য মানুষের সামনে আনবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের বক্তব্য ও নন্দীগ্রামের পাল্টা আক্রমণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে— ভোটের আগে বাংলায় শাসক ও বিরোধীর সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে, যার প্রভাব পড়বে রাজ্যের রাজনীতির প্রতিটি স্তরে।
