স্বপন কুমার দাস: ফের ভিন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক পরিণতি। উত্তর ২৪ পরগনা বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার বালতি নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বালতি মাঝের পাড়ার ঘটনা। গত সাত বছর আগে আলফাজ মণ্ডল পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। 

 

মুম্বই মেট্রো রেল স্টেশনের জন্য ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। থাকতেন মুম্বইয়ের ডাকিয়ার রোড এলাকায় সোমবার্গে। গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাত আটটা নাগাদ কাজ থেকে ফিরে ট্রেনে করে ডাকিয়া রোডে ফিরছিলেন। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। 

 

গতকাল মঙ্গলবার রাত দুটো নাগাদ মুম্বই পুলিশ মুম্বই মসজিদ বন্দর রেললাইন থেকে তাঁর রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে। এরপর তাঁর পরিবারকে জানানো হয়, নিখোঁজ পরিযায়ী শ্রমিক আলফাজের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। হঠাৎ কী হল? কেনই বা নিখোঁজ হয়ে গেলেন? তারপর রক্তাক্ত মৃতদেহ রেললাইনদের থেকে উদ্ধার হল। ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের দানা বেঁধেছে। 

 

মৃতের পরিবার জানায়, আলফাজকে বেশ কয়েক দিন ধরেই বাঙালির শ্রমিক বলে, এমনকী বাংলাদেশী বলে ওই ঠিকাদারের অধীনে থাকা কিছু শ্রমিক তাঁকে হেনস্থা করতেন। বাংলা ভাষায় কথা বলা, বাঙালি হওয়ায় এমনকী বাংলাদেশের লোক বলেও তাঁকে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই কথা আলফাজ তাঁর ভাই জিন্নাকে ফোনে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। এর কয়েক দিন পরেই এই ঘটনা ঘটল। 

 

পরিবারের তরফে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রেনে বাড়ি ফেরার পথেই কি তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে, নাকি তাঁকে পরিকল্পনা করে খুন করে রেললাইনের ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল! মৃত আলফাজের ভাই জিন্না আলি ও আত্মীয় শফিকুল গাজীর অভিযোগ, যেভাবে বাঙালিদের ওপরে ভিন রাজ্যে অত্যাচার হচ্ছে, বাংলা ভাষায় কথা বলায় বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে হত্যা করা হচ্ছে তারই বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা হতে পারে। 

 

পরিবারের দাবি, মহারাষ্ট্র পুলিশ উপযুক্ত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক। ভিন রাজ্যের শ্রমিকরা এই রাজ্যে এসে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তখন তো তাঁরা বাংলায় আক্রান্ত হন না। শুধুমাত্র বাঙালিরা ভিন্ন রাজ্যে গিয়ে আক্রান্ত হবেন, কেন এটা হবে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছেও তাঁদের আবেদন, এই মৃত্যুর প্রকৃত তদন্ত করা হোক। 

 

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সিপিআইএম কমিটির সদস্য রাজু আহমেদ বলেন, 'ভিন রাজ্যে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কোথাও বাঙালি আক্রান্ত হচ্ছে, কোথাও হত্যা করা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত দরকার।'