আজকাল ওয়েবডেস্ক: কংক্রিটের তৈরি সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিদ্যাধরীর খালে। কোনওক্রমে প্রাণ রক্ষা গ্রামবাসীদের। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের বয়ারমারী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢেকনামারী গ্রামে। এই ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে একে অপরের উপর চাপানউতোর। বিরোধীরা তৃণমূলের দিকে আঙুল তুললেও তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি অভিযোগ করেছেন বামফ্রন্টের আমলে তৈরি ৬ ফুট চওড়া ৩০ ফুট লম্বা এই সেতু বেহাল ও ভগ্নদশায় ছিল। সেই সময়েই এর গুণগত মান খুব ভালো ছিল না। রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য দরকার পর্যাপ্ত সময় এবং পরিকাঠামো। প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি।
জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে স্লুইজ গেট থেকে জল ছাড়ার পরে হঠাৎই খালের জল বেড়ে গিয়ে দুর্বল পাকা সেতুটি ভেঙে পড়ে। এর ফলে দুই পারের ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে দেখতে যান সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, সন্দেশখালি ১ ব্লকের সভাপতি ইমান আলি গাজী, যুব সভাপতি মধুসূদন বারুই।
বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেতু যাতে সংস্কার করা হয় তার জন্য সরেজমিনে খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট দ্রুত তৈরি করে কাজ শুরু করা হবে। ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তর, জেলাশাসক-সহ রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের পুরো বিষয়টা বিস্তারিত জানানো হয়েছে। গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। তিন মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সহযোগিতায় নতুন সেতু গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে। আঙুল তোলার আগে নিজেদের কথাও চিন্তাভাবনা করা উচিত সিপিএম নেতৃত্বের। সন্দেশখালির মানুষ সবই জানেন এবং দেখছেন।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা প্রদীপ্ত সরকার বলেন, বামফ্রন্ট আমলে এই সেতু বিদ্যাধরী খালের উপর তৈরি হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো ভন্নদশায় পরিণত হয়েছিল। আমরা গ্রামবাসীরা স্থানীয়দের বা বিশেষ করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যাওয়ার মাধ্যম এই সেতুর দ্রুত সংস্কারের বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। সেই কথা কর্ণপাত করেনি। ব্যবস্থা হলে আজকে সেতু ভেঙে পড়ত না।
