মিল্টন সেন, হুগলি: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগেই জোরদার প্রচারে সব পক্ষ। সোমবার প্রচারের শেষ লগ্নে হুগলির ধনেখালিতে জনসভা ছিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সভামঞ্চ থেকেই এ দিন কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।
সোমবার ধনেখালির কংসারিপুর ময়দানে প্রার্থী অসীমা পাত্রের সমর্থনে সভা করেন অভিষেক। সভা থেকে তিনি জানান, ধনেখালির মানুষ তাঁর কাছে নানা বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "এখানকার কিছু কারখানা থেকে বর্জ্য ঘিয়া নদীতে পড়ছে। ফলে নদীসংলগ্ন ৫০ থেকে ৫৫ টি গ্রামের মানুষ সমস্যায় রয়েছেন। চাষবাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বলেও অভিযোগ অনেকের। কিন্তু তার কোনও সুরাহা হয়নি।" একইসঙ্গে তাঁর হুশিয়ারি, চাষীদের বাঁচাতে কারখানার মালিকদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে রাজ্য প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
অভিষেক বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসকে জিতিয়ে আনুন। আমি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে আরও ৫০ কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তার কাজ আদায় করে আনব। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, গত দু বছরে পথশ্রী প্রকল্পে শুধু ধনেখালিতে ১১৩ কোটি টাকার গ্রামীণ রাস্তার কাজ হয়েছে। দুই, পাঁচ বা পঞ্চাশ লক্ষ নয়। এই তহবিলের মধ্যে বিজেপির দশ পয়সার অবদান নেই। আমাদের দায়িত্ব ভোট চাইতে যাওয়ার সময় মানুষকে বিগত দিনে যা কাজ হয়ে বা পরিকাঠামোগত কাজের হিসেব দেওয়া। তাই বিগত দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরলাম।"
তাঁর দাবি, ধনেখালির গ্রামীণ হাসপাতাল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। লিফ্ট-সহ বিশাল চারতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে। বেডের সংখ্যাও ১০০টি বেড়েছে। পরীক্ষাগার তৈরি থেকে শুরু করে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, আইটিআই কলেজ, দমকল কেন্দ্র, জলাশয়কে সংস্কার করে মাছ চাষের কাজ শুরু হয়েছে। এমনকি খেজুরদহে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্টও তৈরি হয়েছে।
অভিষেক বলেন, "আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি আগামী দু বছরের মধ্যে ধনেখালি বিধানসভার যারা আবাস যোজনার বাড়ির আবেদন করেছেন সকলের মাথার উপর পাকা ছাদ হবে। এক জনও বাদ যাবেন না। মোট ১৩টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত বিধানসভায় ১ লক্ষ ৮ হাজার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে রাজ্য। বিজেপি ধমকাবে চমকাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার যতদিন থাকবে লক্ষ্মীর ভান্ডার কেউ বন্ধ করতে পারবে না। আজীবন পাবেন, আটকাবে না। যারা যুব সাথী নিয়ে এই সরকারকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছে। তাঁদের বলছি এক মাসে এই বিধানসভায় ২০ হাজার যুব সাথী পাচ্ছেন। ওরা বলে ১৫০০ টাকায় কি হয়? আমি বলি এতদিন মোদী ক্ষমতায়, এক পয়সাও দেয়নি। ওদের কাছে হয়তো কিছু না, হাতের ধুলো। কিন্তু গরিব মানুষের কাছে এই টাকাটা অনেক।"
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "একদিকে নরেন্দ্র মোদী আপনাকে লুটেপুটে নিয়েছে। করের উপর কর চাপিয়েছে। চারশ টাকার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম হয়েছে এগারশো টাকায়। ব্ল্যাকে দাম দুহাজার আড়াই হাজার। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এটাই নরেন্দ্র মোদির সরকার। ওরা আপনাদের লুটে টাকা গুজরাট উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুব সাথী করে মমতা ব্যানার্জি আপনাদের আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন। একদিকে মোদী নিচ্ছে। রাজ্য সরকার দিচ্ছে।তৃণমূল জিতলে ধনেখালির টাকা ধনেখালিতে খরচ হবে। উন্নয়ন হবে। বিজেপি জিতলে ধনেখালির টাকা গুজরাট যাবে।"
তাঁর কথায়, "এই নির্বাচন শুধু তৃণমূলকে জেতানোর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন বহিরাগত বাংলা বিরোধীদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। যখন ইচ্ছে লাইনে দা করিয়ে দিয়েছে। তাই আগামী ২৯ তারিখ লাইনের বদলা লাইনে দাঁড়িয়েই নিতে হবে।"















