আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ‘সঙ্গ’ না ছাড়লে দলের প্রতীক থেকে শুরু করে সম্পদ সবই তাঁকে হারাতে হবে।

রবিবার এই কথা সাফ জানিয়ে দিলেন রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বিরোধী ব্লক থেকে নির্বাচিত দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান।

রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জে নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আখরুজ্জামান বলেন, ‘অভিষেককে যদি মমতা ব্যানার্জি দলে রাখেন তবে তাঁর সঙ্গে আমরা আর দল করতে পারব না। ওনাকে ছেড়ে যদি মমতা ব্যানার্জি আমাদের নেতৃত্ব দেন তাহলে তাঁর নেতৃত্বেই আমরা তৃণমূল কংগ্রেস করব।’ 

প্রসঙ্গত, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একে একে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছাড়ছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক বিধায়ক, নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী।

২৬-এর নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ৮০ টি আসন থেকে জয়ী হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন  শুরুর আগে আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বিধায়ক মমতা বিরোধী তৃণমূল ব্লকে যোগদান করবেন বলে জানা গিয়েছে।

এর পাশাপাশি লোকসভা এবং রাজ্যসভাতেও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একাধিক সাংসদ ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন এবং আরও একাধিক তৃণমূল সাংসদ ইতিমধ্যেই মমতা বিরোধী ব্লক তৈরি করে ফেলেছেন। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক হিসেবে নির্বাচিত আখরুজ্জামান বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি যদি মনে করেন অভিষেক ব্যানার্জিকে নিয়েই চলবেন তাহলে উনি থাকবেন আমরা আলাদা ব্লক তৈরি করব। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত প্রাক্তন জেলা সভাপতিরা আমাদের ব্লকে যোগ দিয়েছেন।’
 
এর পাশাপাশি আখরুজ্জামান এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙন নিয়ে বড় তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২৩ জন এবং রাজ্যসভায় ১৩ জন তৃণমূল সংসদের মধ্যে ৯ জন মমতা বিরোধী ব্লকে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া যে সমস্ত তৃণমূল নেতা-নেত্রী দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে মমতা ব্যানার্জি সঙ্গে ছিলেন তাঁদের ৮০ -৯০ শতাংশ আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। নতুন তৃণমূল ব্লকই যে আসল তৃণমূল কংগ্রেস তা প্রমাণ করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক এবং সাংসদ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অভিষেক ব্যানার্জির ব্যবহারের জন্যই তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী এবং যুবনেত্রী পদে নতুন করে নাম ঘোষণার পরও মালা রায়, সায়নী ঘোষরা মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছেড়ে আমাদের ব্লকে যোগ দিয়েছেন। মমতা ব্যানার্জি যদি অভিষেকের সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন তাহলে ১৮ তারিখ রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ব্লক আলাদা ভাবে যাত্রা শুরু করবে।’

রাজ্যে আগামী দিনেও বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের নতুন ব্লকের লড়াই জারি থাকবে বলে জানান তিনি।বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের হাতে যে সংখ্যক বিধায়ক এবং সাংসদ রয়েছে তাতে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করলে আমরাই ঘাসের উপর জোড়া ফুল প্রতীক পাব। দলের যাবতীয় সম্পদ আমাদের হাতেই আসবে। তবে আমরা রাজ্যবাসীকে নিশ্চিত করতে চাই আগামী দিনেও বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’
 
রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান আজ জানান, মমতা ব্যানার্জির ক্যাবিনেটে মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও কথাবার্তা হত না। মুখ্যমন্ত্রীকে এলাকার উন্নয়নের জন্য কোনও প্রকল্পের কথা বললেই টাকার অভাব দেখিয়ে তিনি কোনও কাজ করেননি। 

আজকের সাংবাদিক বৈঠকে আখরুজ্জামান আরও দাবি করেন, ‘রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বিরোধী ব্লক তৈরি হতে দেখে উৎসাহিত হয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদরা মমতা বিরোধী ব্লক তৈরি করতে সাহস পেয়েছেন। সাংসদদের নতুন ব্লকের অমুসলিম জনপ্রতিনিধিরা প্রথমে এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে মুসলিম সাংসদদের চাপে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মমতা বিরোধী ব্লকের বিজেপি বিরোধিতা জারি থাকবে।’

রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে আখরুজ্জামান পরিষ্কার করে দিয়েছেন, মমতার সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা খুব বেশিদিন অপেক্ষা করবেন না। তিনি যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন তাহলে খুব শীঘ্রই মমতা বিরোধী ব্লকের তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে তাঁরাই ঘাসের ওপর জোড়া ফুল প্রতীকের দাবি জানাবেন।