আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ গুলি এবং বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করতে গিয়ে বুধবার সন্ধে নাগাদ মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার পুলিশ এবং জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের (এসওজি) আধিকারিকদের হাতে গ্রেপ্তার হল তিন কুখ্যাত অস্ত্র পাচারকারী। 

বুধবার  গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি যৌথ দল ওই তিন  আগ্নেয়াস্ত্র পাচারকারীকে বহরমপুর থানার অন্তর্গত সুভাষনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম-কাউসার আলি (১৯) বাড়ি রাণীনগর-শেখপাড়া, রফিকুল মন্ডল (৩৫) বাড়ি মাধবপুর ইসলামপুর এবং সাকিরুল শেখের বাড়ি সাগরপাড়া থানার বালিবোনা এলাকায়। 

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মজিদ ইকবাল খান বৃহস্পতিবার বলেন,"ধৃতদের হেফাজত থেকে দু'টি অত্যাধুনিক ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, চারটি খালি ম্যাগাজিন, ৩০০ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, একটি মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন এবং ১০ হাজার টাকার ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার হয়েছে।"
 
তিনি বলেন,"প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি ধৃতরা ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি জোগাড় করেছিল। এই বিপুল পরিমাণ গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্র কাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পেশ করা হয়েছে।"

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে , ধৃত রফিকুল মন্ডলের বিরুদ্ধে অতীতে বহরমপুর থানায় অস্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে। 

মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এক আধিকারিক জানান, রানীনগরের একটি স্কুলের নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর কাউসার বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি কেনাবেচার কারবারে জড়িয়ে পড়ে।

কয়েক মাস আগে তার সঙ্গে সাকিরুল নামে সাগরপাড়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। সাকিরুল নিজের গ্রামে রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। 

পুলিশের ওই আধিকারিক জানান,বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সে দেশে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলির ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে।

সেই সুযোগ নিয়ে কাউসার, রফিকুল এবং সাকিরুল বেআইনিভাবে বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি পাচারের কারবার ফেঁদে বসেছিল।

এর পাশাপাশি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদেরও তারা গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করত বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে। 

জেলা পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, 'প্রাথমিক তদন্তে আমরা আরও জানতে পেরেছি প্রত্যেক মাসে কাউসার কমপক্ষে ২ থেকে ৫ বার সাহেবগঞ্জে  যেত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি সংগ্রহ করার জন্য। এরপর সেগুলো মুর্শিদাবাদের নিয়ে এসে সময় সুযোগ মতো সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ পাচার করে দিত।'

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকালে গুলি এবং পিস্তল নিয়ে ট্রেনে করে ঝাড়খন্ড থেকে ফরাক্কা স্টেশনে এসে নামে কাউসার। এরপর বাসে করে বহরমপুর শহরে এসে পৌঁছয়।

সূত্রের খবর, কাউসারকে 'নিরাপত্তা' দেওয়ার জন্য ফরাক্কা থেকে বহরমপুর পর্যন্ত রফিকুল এবং সাকিরুল তাকে একটি মোটরসাইকেলে করে অনুসরণ করে।

এরপর তিনজন বহরমপুরের সুভাষনগর এলাকায় জড়ো হয়। সেই সময়ে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের যৌথ দল তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, সাহেবগঞ্জ থেকে এই দুষ্কৃত দল যে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রগুলি সংগ্রহ করত তার দাম ৩৫ -৩৮ হাজার টাকার মধ্যে। এগুলো তারা বিভিন্ন দুষ্কৃতী দলের কাছে  ৫০,০০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করত। 

পুলিশের ওই আধিকারিক বলেন, 'তবে এই দুষ্কৃতী দলের বুলেট বিক্রি করে বেশি লাভ হচ্ছিল বলে তারা আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে বিপুল পরিমাণে বুলেট সাহেবগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসছিল। পুলিশ সূত্রের খবর সাহেবগঞ্জে এক একটি বুলেটের দাম ৫৫০ টাকা।'

বাংলাদেশে এই দুষ্কৃতীরা প্রত্যেকটি বুলেট ভারতীয় মুদ্রায় কমপক্ষে ২০০০ টাকায় বিক্রি করত বলে জানা গিয়েছে। ওই আধিকারিক জানান, যে এলাকায় ধৃতদের বাড়ি সেখান থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত খুব বেশি দূরে নয়।

তাই স্থানীয় পাচারকারীদের সাহায্য নিয়ে তারা নিয়মিত বাংলাদেশে গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচার করত। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।