আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে খুন হওয়া সিপিআই(এম) কর্মী দেবপ্রসাদ দাস (দেবু) ও তাঁর স্ত্রী ঊষারানি দাস হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৫ সালের কালীগঞ্জের তামান্না খুনের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১২ জনকে।
কাকদ্বীপের বুদাখালি গ্রামের এই দম্পতিকে তাঁদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মুড়িগঙ্গা নদীর পাশে নির্জন জায়গায় বাড়ি ছিল দেবুবাবুর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। ‘মাছ ধরতে হলে তৃণমূল করতে হবে’—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ নিতে অস্বীকার করা, ময়নাতদন্তের পর দেহ আটকে রাখা থেকে শুরু করে হাইকোর্টের নির্দেশে ‘সিট’ গঠন—দীর্ঘ আট বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন দাস দম্পতির পুত্র দীপঙ্কর দাস। অবশেষে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু হওয়া এই মামলায় বুধাখালি গ্রামের ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
ধৃতেরা হলেন—অশোক মণ্ডল (৪৬), চন্দন গিরি (৪১), মেঘনাথ ডাকুয়া (৬২), মাধব কান্দার় (৬৫), নিকুঞ্জ নস্কর (৬৯), শিবপ্রসাদ মণ্ডল (৬৬), অমিত মণ্ডল (৪১), গোকুল জানা (৪৫), নারায়ণচন্দ্র পতি (৪৮) এবং শেখ মনিরুল (৪০)। পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপ-নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সিপিআই(এম) সমর্থক সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে তৃণমূলের দুষ্কৃতী বাহিনী, যার জেরে মৃত্যু হয় তাঁর মেয়ে তামান্নার। এই ঘটনায় আগে ১০ জন গ্রেপ্তার হলেও মূল অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন জেলের বাইরে ছিল। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদ থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে এই জোড়া গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক মোড়। সম্প্রতি বিধানসভায় সিপিআই(এম) বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান এবং নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি এই দুই ঘটনার স্বজনহারা পরিবার এবং নিহত আনিস খানের বাবাকে সাথে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যের ডিজির কাছে পাঠান।
মুখ্যমন্ত্রী ও ডিজির সাথে সাক্ষাতের ঠিক পরদিনই পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল আমরা দেখা করেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের ডিজির কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার পরই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে। আমরা এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। উনি রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, আমরা আশা করব আগামী পাঁচ বছর সরকার এই নিরপেক্ষ মনোভাব বজায় রেখেই চলবে।’















