বীরেন ভট্টাচার্য, দিল্লি: বিজেপিতে ফিরলেন খনি ব্যবসায়ী এবং কল্যাণ রাজ্য প্রগতি পক্ষের বিধায়ক জর্নাদন রেড্ডি। রাজ্যের নেতা বিএস ইয়েদুরাপ্পা এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিওয়াই বিজয়েন্দ্রের উপস্থিতিতে পদ্মের পতাকা হাতে নেন তিনি। বিরোধীদের তরফে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, সিবিআই, ইডি, আয়কর দপ্তর ব্যবহার করে দলে দুর্নীতিগ্রস্তদের আমদানি করছে বিজেপি। কেন্দ্রের শাসকদলের দপ্তরে থাকা ওয়াশিং মেশিনে তাঁদের ধুয়ে ফের মূল স্রোতে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জনার্দন রেড্ডির বিরুদ্ধে অবৈধ খনি কারবারের ৯টি মামলা চলছিল। সিবিআই তদন্ত ধামাচাপা দিতেই তিনি বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাঁর স্ত্রীও যোগদান করেছেন বিজেপিতে।  
২০২৩ সালে কর্নাটকের উত্তর অংশের বেশ কিছু জেলায় বিজেপির ভোট কেটেছিল কল্যাণ রাজ্য প্রগতি পক্ষ পার্টি। এই দলের একমাত্র বিধায়ক ছিলেন জনার্দন রেড্ডি। সোমবার তাঁর যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই পুরো দলটিই বিজেপিতে মিশে যায়। জনার্দন রেড্ডি জানান, "অমিত শাহ আমায় বলেছিলেন, বাইরে থেকে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই নেই। তিনি আমায় মনে করিয়ে দেন যে, আমার রাজনৈতিক শুরু বিজেপিতে এবং আমায় দলে ফিরতে বলেন।"  ২০০৮-২০১৩ প্রথম দক্ষিণের কোনও রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন হয়। সেই সরকারে পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন জনার্দন রেড্ডি। রেড্ডি ভাইদের বিরুদ্ধে লোহা আকরিক খননের কেলেঙ্কারি সামনে আসে। ২০১০-১১ সালে কর্নাটকের লোকায়ুক্ত রেড্ডি ভাইদের ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১২,২২৮ কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে আনে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জনার্দন রেড্ডির বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। ২০১১ সালে বিজেপি তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করে। সেই সময় নিজের এলাকা বেল্লারিতে পা রাখা নিষিদ্ধ ছিল জনার্দন রেড্ডির। ২০২২ সালে বিজেপি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল তৈরি করেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ২০টি ফৌজদারী মামলা রয়েছে। তারমধ্যে অবৈধ খনন সংক্রান্ত ৯টি মামলার তদন্তে রয়েছে সিবিআই।
এই ধরণের একজন নেতার বিজেপিতে ফেরা নিয়ে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র ডঃ শামা মহম্মদ বলেন, "বিজেপি সরকার বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের সামান্যতম কারণেও গ্রেপ্তার করে। তারপরেও রেড্ডির মতো নেতাদের জন্য লাল কার্পেট পাতা হয়েছে। যিনি দুর্নীতির ভরকেন্দ্র। এটাই বিজেপির প্রকৃত চরিত্র।" তৃণমূল সাংসদ জহর সরকারের বক্তব্য, "ধনকুবের এবং বিতর্কিত আকরিক লোহা খননকারী জনার্দন রেড্ডি, যাঁকে ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট, তাঁকে ক্নিনচিট বিজেপির।" উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সাংসদ এবং মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর বক্তব্য, "সময়ের অবকাশে ৯টি সিবিআই মামলা দাঁড়াল শূন্যতে। কাউন্টডাউন শুরু, কাজ শুরু করেছে ওয়াশিং মেশিন।"