দেবার্ঘ্য সাহা:

 

বৃশ্চিক

 

বিলাসী অপরাহ্নের চিবুকে দৈব বৃশ্চিক ঝুলতে দেখে

তার আনত শৌর্যের কাছে ফেলে আসি যাবতীয় ক্লেদ

বন্ধুরা এসে জড়ো হয় নারকীয় জলসায়

সমস্ত বিসদৃশ কর্মপন্থার সাক্ষ্য বহন করে 

       এক রিক্ত ঝাড়বাতি

 

সান্ধ্য শরীরে খসে পড়ে লজ্জা

কথার পরিধি বাড়লে আশঙ্কার মেঘ জমে

মনে হয়, এই বুঝি সে এল আবার

যদিও স্বভাবদোষে কুসুমিত পথে এগোনোর 

           সাধ্যি তার নেই, তা জানি

 

তবু সে আসে অনাহুত অতিথির মতো 

 

যাবতীয় হুল্লোড় ম্লান করে

চোখে পড়ে তার তীব্র পিপাসা

করুণ চন্দ্রালোকে শুনি তার নাছোড় আত্মরতি

 

তারপর উৎসাহ ফুরোলে 

একে একে সবাই চলে যায়

কামনাসুধার আড়ালে রয়ে যায় সে

 

রাত বাড়ে

অনুরাগ-বিরাগের গরমিলে 

কখন যে সে মিলিয়ে যায়, জানতে পারিনা

 

ভোর হয় অজান্তে

দেখি, শূন্য কুটিরে সর্বত্র পড়ে আছে 

আমাদের ভগ্ন অনুতাপ

 

 

ভয়

 

বিষম গরিমার বক্ষপিঞ্জরে 

জ্বলছে ম্রিয়মান শেষ শপথ

কন্টকাবৃত ধূম্রপ্রান্তরে

ছুটেছে দেখো ওই অগ্নিরথ

 

বেজেছে রণভেরী, শাণিত তরবারি

কল্পযুদ্ধের এমনি তেজ

বাসনা উদ্ধত, ক্রম বিষোদ্গারে

সদা আতঙ্কিত দস্তাবেজ

 

নির্বিকারে সব তছনছিয়ে তুমি

নীরবে দেখেছিলে কেবলই ক্ষয়

পেছনে ফিরে দ্যাখো, রথে আসীন আজ

তোমারই চিরচেনা মৃত্যুভয়…

 

শেষ 

 

ধর্ম জ্ঞানে অন্ধ লোকে, অতৃপ্ত অন্বেষ

মেঘের ফাঁকে গর্জে ওঠে বিবর্ণতার দ্বেষ

ঈর্ষা রঙের

চোখ

বিমূর্ত সম্ভোগ 

 

শুরুর কথা বলার আগে দেখছি শুধুই শেষ…