বুধবার ২২ মে ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

‌‌Hospital Management: হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট, কোন যোগ্যতায়, কীভাবে আসবেন এই পেশায়?

Riya Patra | ০৮ জানুয়ারী ২০২৪ ০৮ : ২৪


ডঃ ভাস্কর চৌধুরী: হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট তথা হাসপাতাল পরিচালন ব্যবস্থা স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার মধ্যে রোগীর সুস্থতা থেকে সুরক্ষা, আর্থিক বিষয়–‌সহ হাসপাতালের সব ধরনের কার্যাবলি ও তদারকি এর অন্তর্ভুক্ত। হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে বিবিএ ডিগ্রির চাহিদা ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্রমেই বাড়ছে। কর্পোরেট জগতের আকর্ষণীয় বেতন বরাবরই ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের পছন্দ। পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের অন্যান্য রাজ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি করার সুযোগ রয়েছে। এবার আসা যাক হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি করতে গেলে কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। কোনও ছাত্রছাত্রী যে কোনও বিষয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর এই কোর্সে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে। জাতীয় শিক্ষানীতি (‌২০২০)‌ অনুযায়ী হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার জন্য চার বছর সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং এই সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলির উপর থিওরেটিক্যাল এবং হসপিটাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হয়।গ্র‌্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করার পরেই এই কোর্সে উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের সামনে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, নার্সিংহোমে, বিমা সংস্থা, এনজিও এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় চাকরির সুযোগ থাকে। প্রায় প্রত্যেক শিক্ষা সংস্থাতেই নিয়মিত ক্যাম্পাসিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। এই ক্যাম্পাসিংয়ে বিভিন্ন মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা অংশগ্রহণ করে এবং তাদের প্রয়োজন অনুসারে ছাত্রছাত্রীদের বেছে নেয়। হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট কোর্সটি পড়ার সময় ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সেমেস্টারে একাধিকবার সরকারি এবং বেসরকারি মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ট্রেনিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়, যা ছাত্রছাত্রীদের হাসপাতাল পরিচালনায় দক্ষ করে তোলে। পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীরা সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, যেমন– ওপিডি, রিসেপশন, পাবলিক রিলেশন, বিলিং, মার্কেটিংয়ে কাজের সুযোগ পায়। এছাড়াও এই কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট (‌নন–‌মেডিক্যাল)‌ পদে, ব্লাডব্যাঙ্ক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারে।
গ্র‌্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করার পর বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী চাকরির পথ বেছে নিলেও অনেকে আবার উচ্চশিক্ষার পাঠ নেয়। এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর (‌এমএইচএ)‌ অথবা অন্যান্য বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট কোর্স (‌এমবিএ)‌–‌র পথ বেছে নিতে পারে। স্নাতকোত্তর স্তরে হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত অত্যাধুনিক বিষয়গুলি নিয়ে পড়ানো হয় এবং নির্দিষ্ট কোনও অধ্যাপকের অধীনে বিশেষ কোনও বিষয়ের ওপর ডেজারটেশন জমা করতে হয়। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সংস্থায় সরাসরি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পায়, যা তাদের হাসপাতাল পরিচালনায় দক্ষ করে তোলে এবং চাকরির ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে।
হসপিটাল ম্যানেজারদের অবশ্যই নিজেদের ভূমিকায় সফল হতে ভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। এই দক্ষতাগুলির মধ্যে রয়েছে নেতৃত্ব ও পরিচালনার দক্ষতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা, কৌশলগত পরিকল্পনা, বিমা সংক্রান্ত বিষয়, রোগীর উন্নতমানের পরিষেবা এবং নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি, স্বাস্থ্যসেবা বিধি এবং নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা এবং সর্বোপরি হসপিটালের সিস্টেম পরিচালনার দক্ষতা। এছাড়াও রোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাও হসপিটাল ম্যানেজারদের কাজের মধ্যেই পড়ে।
বর্তমানে হসপিটাল ম্যানেজারদের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নতুন দক্ষতা এবং তার বিকাশে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক এই দক্ষতাগুলির মধ্যে ডেটা বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ (‌রোবটিক সার্জারি)‌, উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ সম্পর্কিত অত্যাধুনিক জ্ঞান অর্জন অন্তর্ভুক্ত।
হসপিটাল ম্যানেজমেন্টে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর ছাত্রছাত্রীরা স্বল্প পরিসরে নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসার চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে মেডিক্যাল ট্যুরিজম, টেলিমেডিসিন, এনজিও, হেল্‌থকেয়ার কনসালটেন্সি প্ল্যানিং এবং হসপিটাল প্ল্যানিং প্রভৃতি ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় কেরিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ থাকে।
অন্যদিকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর ছাত্রছাত্রীরা ইউজিসি পরিচালিত ‘‌নেট’‌ বা ‘‌সেট’‌ প্রভৃতি পরীক্ষার মাধ্যমে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে গবেষণার সুযোগ পেতে পারে। নেট ‌উত্তীর্ণ প্রার্থীরা গবেষণা চলার সময় ফেলোশিপ পায়। এছাড়াও নেট বা সেট ‌উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে চাকরির জন্য আবেদন জানাতে পারে।
হসপিটাল ম্যানেজমেন্টকে পুঁথিগত ভাষায় হাসপাতাল পরিচালন ব্যবস্থাপনা বলা যেতে পারে। শুধুমাত্র কোনও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিমা প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলিতে হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই সকল সংস্থায় কর্মীদের কার্য পরিচালনা, পরিষেবার উন্নতি, কর্মী প্রশিক্ষণ, রোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হল হসপিটাল ম্যানেজারদের অন্যতম দায়িত্ব।
বর্তমানে মানুষজন অনেকটাই স্বাস্থ্য সচেতন। তাই সাধারণ হেল্‌থ চেকআপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষ এখন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই সকল স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি করা সুদক্ষ ছাত্রছাত্রীরা। তাই হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট কোর্সের চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী এবং এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা করার পর ছাত্রছাত্রীদের সামনে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করে রয়েছে।




বিশেষ খবর

নানান খবর

রজ্যের ভোট

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া