আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুগলের স্ট্রিট ভিউ ক্যামেরায় নিজের বাড়ির মধ্যে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ছবি উঠিয়ে ফেলার ঘটনায় গুগলকে প্রায় ১০.৮ লক্ষ টাকা (১২,৫০০ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করল আর্জেন্টিনার আদালত। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালে, আর্জেন্টিনার একটি ছোট শহরে। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উঁচু প্রাচীরের আড়ালে নিজের বাড়ির পেছনের উঠোনে ছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় পুলিশ অফিসার। সেই সময় গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ক্যামেরা তাঁর সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি তুলে ফেলে। ছবিতে শুধু তাঁর শরীরই নয়, স্পষ্টভাবে দেখা যায় বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নামও। এই ঘটনায় লোকলজ্জা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্রুপের মুখে পড়েন তিনি।
পরে ২০১৯ সালে তিনি গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে নিম্ন আদালত তাঁর মামলা খারিজ করে দিয়ে বলে, তিনি নিজেই ‘অনুচিত অবস্থায়’ বাইরে ছিলেন। কিন্তু চলতি বছর আপিল আদালত সেই রায় উল্টে দেয় এবং গুগলকে দায়ী করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘এটি একটি ব্যক্তির ছবি, যিনি কোনও পাবলিক প্লেসে ছিলেন না বরং নিজের বাড়ির সীমানার ভেতরে ছিলেন, এবং একটি সাধারণ মানুষের উচ্চতার চেয়ে বেশি উঁচু পাঁচিলের আড়ালে ছিলেন। এটি স্পষ্টভাবে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা’। আদালত আরও মন্তব্য করে, ‘কেউই পৃথিবীর সামনে এমনভাবে নগ্ন হয়ে প্রকাশিত হতে চায় না, যেমনটা জন্মের সময় থাকে’। গুগল দাবি করেছিল, পাঁচিলটি যথেষ্ট উঁচু ছিল না।
তবে আদালত এই যুক্তি খারিজ করে দেয় এবং গুগলের দায়িত্বহীনতাকে তুলে ধরে। গুগলের স্ট্রিট ভিউ নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুখ ও গাড়ির নম্বর প্লেট ব্লার করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করি। যদি কেউ তাঁর বাড়ি, গাড়ি বা শরীর পুরোপুরি ব্লার করতে চান, তবে ‘Report a problem’ টুল ব্যবহার করে অনুরোধ জানাতে পারেন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে, গুগল চেহারা বা শরীর ব্লার না করে পুরো ছবি প্রকাশ করে দেয়, যা আদালতের মতে গুরুতর গাফিলতি। এই মামলার রায় বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব এবং নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















