আজকাল ওয়েবডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশে প্রবল বর্ষণের জেরে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে জম্মু-রাজৌরি-পুঞ্চ হাইওয়ে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, জম্মু অঞ্চলে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসনের তরফে এক সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বাসিন্দাদের পাহাড়ি এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এক জন বৈষ্ণদেবী মন্দিরের তীর্থযাত্রী এবং অপরজন পুঞ্চ জেলার এক সরকারি স্কুলের ছাত্র। কটরায় পুরনো বৈষ্ণদেবী ট্র্যাকে ভূমিধসের ফলে এক তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন। পুঞ্চের বাইনচ কালসান গ্রামে ভূমিধসে একটি সরকারি স্কুল আংশিকভাবে ধসে পড়ে, এক ছাত্রের মৃত্যু হয় এবং চারজন আহত হন। গাড়ির ওপর পাথর পড়ে গিয়েছে আহত হয়েছেন এক সিনিয়র পুলিশ অফিসারও। রাজৌরির বিভিন্ন অংশে বন্যার খবর মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে দুর্বল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে যেতে।

পীর পাঞ্জাল এলাকার হিমালয়ান পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক পরিকাঠামো উন্নত করতে ও জল জমার সমস্যা কমাতে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় শর্মা জানিয়েছেন, ‘বাজার এলাকায় যেখানে জল জমার সমস্যা ছিল, সেখানে কংক্রিট পেভমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ড্রেনগুলিও পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে রাস্তায় জল না ওঠে’। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন, উদ্ধারকারী দল এবং রাস্তা মেরামতির কাজ জোরকদমে চলছে। বাসিন্দাদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক ও ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, একই অবস্থা হিমাচল প্রদেশেও। প্রবল বর্ষার জেরে বৃষ্টির তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে হিমাচল প্রদেশে। এর ফলে রাজ্যের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। চাম্বা, কাংরা, কুল্লু ও মান্ডি এই চারটি জেলাকে লাল সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে।

বাকি রাজ্যের জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলায় বর্তমানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত চলছে। এমনকি, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মান্ডি জেলায় লাগাতার বৃষ্টিতে একাধিক স্থানে ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এর ফলে ১৭০টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি জাতীয় সড়ক। টানা বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজ। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে ক্রমশ। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে ২০ জুন থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মোট ৯৮ জন দু্র্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন। ৫৭ জন বৃষ্টিপাতজনিত ঘটনায় এবং ৪১ জন সড়ক দুর্ঘটনায়। আরও ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। বর্ষায় ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হিমাচল প্রদেশে এখনও পর্যন্ত ৩১টি আকস্মিক বন্যা, ২২টি ক্লাউডবার্স্ট এবং ১৮টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।