আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাতারাতি নিজেদের মত বদলে ফেলল পাকিস্তান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন থেকে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। রবিবার ইসলামাবাদ জানায়, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। এই ঘটনার মাত্র পাকিস্তান সরকারের তরফে জানানো হয়, তারা মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারণ হিসেবে বলা হয়, গত মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের সংঘর্ষ চলাকালীন দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবার এদিন ইরানে হামলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সমস্ত রীতি ভঙ্গ করেছে এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে’।
পাশাপাশি ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের জেরে সৃষ্টি হওয়া সহিংসতা ও উত্তেজনার নজিরবিহীন বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পাশাপাশি বিশ্বের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে’। ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ ঘিরে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন।
তারপরেই ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কারে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। আবার, ইরানে আমেরিকা হামলা চালাতেই রাতারাতি মত বদলে গেল ইসলামাবাদের। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। ফলে অঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি পাক-ইরান সীমান্তের নিরাপত্তার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের অবস্থান এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
















