আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার খেজুরতলা-পটলাতলা এলাকার গঙ্গার ধার থেকে দিনে দুপুরে কেটে নেওয়া হচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমির মাটি। অভিযোগ পুলিশকে জানিয়েও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তার ফলে আগামী বর্ষাকালে ওই এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ গঙ্গা নদীর জলে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- গত কয়েকদিন ধরে খেজুরতলা-পটলাতলা এলাকায় জনৈক হাসান শেখ এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি দিনের বেলা এবং রাতে শ্রমিক লাগিয়ে গঙ্গার ধার থেকে বিঘার পর বিঘা জমির মাটি কেটে নিচ্ছেন। অভিযোগ এরপর সেই মাটি ট্রাক্টারে ভর্তি করে পৌঁছে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন ইটভাটাতে।
সাদিকুল শেখ নামে এক ব্যক্তি জানান, "খেজুরতলা -পটলাতলা এলাকাতে আমাদের পরিবারের প্রায় ৩০ বিঘা জমি রয়েছে। গঙ্গা নদীর ভাঙনে বেশ কয়েক বিঘা জমি তলিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে ১২ বিঘা জমিতে আমরা চাষবাস করি। এ বছর আমরা সেই জমিতে বিভিন্ন রকম ডালের চাষ করেছি। কিন্তু গত চার দিন ধরে হঠাৎই হাসান শেখ এবং তার দলবল নদীর পাড়ে থাকা আমাদের এবং আশেপাশের বিঘার পর বিঘা জমি থেকে জোর করে মাটি কেটে নিচ্ছে।"
ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, "গোটা বিষয়টি ভূমিরাজস্ব দপ্তরে জানানোর পর তারা একবার এসে দুটি মাটি ভর্তি ট্রাক্টর আটক করেছিল। কিন্তু তারপর ফের একবার ওই ব্যক্তি নদীর ধার থেকে মাটি কাটা শুরু করেছে।"
তিনি জানান, "অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি ইতিমধ্যে রঘুনাথগঞ্জ থানাতে জানালেও পুলিশের তরফ থেকে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন- মাটি মাফিয়ারা রোজ গঙ্গার ধার থেকে কমপক্ষে ২০-৩০ টি ট্রাক্টর ভর্তি করে মাটি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এইভাবে গঙ্গা নদীর ধার থেকে মাটি তোলা চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাবে।
রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সমিরউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, "গঙ্গা নদীর ধার থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব দ্রুত যাতে এই বেআইনি কাজ বন্ধ করা হয়।"