আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ নিয়ে রাজনৈতিক কোলাহল প্রায়শই হয়। নির্বাচনের পূর্বে এই ইস্যু নেই শোরগোল আরও তীব্র হয়। শাসক-বিরোধী তরজা এই নিয়ে লেগেই আছে। দুই বাংলার মধ্যে বিস্তৃত সীমান্তের অনেকটা অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। এই বিপুল এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে বিশেষ পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর আন্তর্জাতিক সীমান্তে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েন করতে পারে বিএসএফ। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জন্য বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা জুড়ে সরীসৃপ মোতায়েন করা সম্ভব কিনা তা বিএসএফকে যাচাই করে দেখতে বলেছে কেন্দ্র। এখন পর্যন্ত এই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য হিন্দুর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিএসএফের সূত্র অনুযায়ী অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনের জন্য বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সাপ ও কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাবনা যাচাই করতে বিএসএফ ফিল্ড ইউনিটগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি নির্দেশিকায় এই ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে বলা হয়েছে, “ঝুঁকিপূর্ণ নদীখাতের সরীসৃপ (যেমন সাপ বা কুমির) মোতায়েনের সম্ভাবনাকে কর্মপরিচালনার দৃষ্টিকোণ থেকে অন্বেষণ ও পরীক্ষা করুন।”
বিএসএফ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। পূর্ব বাংলাদেশ সীমান্তের বেশিরভাগ অংশেই ঘন ঘন বন্যা হয় এবং সেখানকার ভূখণ্ড বেড়া দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭ মার্চের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে ৩,৩২৬.১৪ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২,৯৫৪.৫৬ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া হয়েছে, ফলে অনুমোদিত প্রায় ৩৭১ কিলোমিটার অংশে কোনও বেড়া নেই।
সুবিশাল সুন্দরবন বদ্বীপ এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বিস্তৃতির কারণে পূর্ব সীমান্তের বিন্যাস ও ভূখণ্ড বিশেষভাবে প্রতিকূল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০২৪-২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পাহাড়, নদী ও উপত্যকা-সহ প্রতিকূল ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিএসএফ অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ রোধ করতে দিনরাত সতর্ক নজরদারি রেখেছে।
এর পাশাপাশি আরও দু’টি বিষয়ে নজর দিতে বলা হয়েছে বিএসএফকে। প্রথমত, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের কোন কোন বর্ডার আউটপোস্ট ‘ডার্ক জোন’–এ পড়ছে, তা খুঁজে বার করতে হবে। এই সব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল, যা উন্নত করা হবে। দ্বিতীয়ত, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে।















